বাউফলে বাবা-মা হারা তিন প্রতিবন্ধী ভাইয়ের পাশে ইউএনও

পটুয়াখালীর বাউফলে বাবা-মা হারিয়ে চরম অনাহার ও অবহেলার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করা তিন প্রতিবন্ধী ভাই—নিদু, রিপন ও সাধনের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাদের সহায়তায় একটি যৌথ ব্যাংক হিসাব খুলে দেওয়া হয়েছে, যেখানে ইতোমধ্যে জমা হয়েছে প্রায় ১২ লাখ টাকা।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৭ জুন) দুপুরে বাউফল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সালেহ আহমেদের উদ্যোগে অগ্রণী ব্যাংক, বাউফল শাখায় তিন ভাইয়ের নামে একটি যৌথ হিসাব খোলা হয়। পাশাপাশি তাদের জন্য এক মাসের খাদ্যসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীও প্রদান করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে তিন ভাইয়ের অসহায় জীবনসংগ্রামের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর দেশ-বিদেশের অসংখ্য মানবিক ব্যক্তি তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেন। বিকাশ, নগদ ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাঠানো অনুদানের মধ্যে শুধুমাত্র ব্যাংক হিসাবেই সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী জমা হয়েছে ১১ লাখ ৭৬ হাজার ২৮১ টাকা।
বিজ্ঞাপন
বিকেলে উপজেলার ধূলিয়া ইউনিয়নের আলোকচাঁদকাঠী গ্রামে গিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী ও প্রয়োজনীয় সহায়তা তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
প্রশাসন জানিয়েছে, তিন ভাইয়ের নামে খোলা যৌথ হিসাবটি পরিচালনা করবেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা। তাদের প্রয়োজন ও চাহিদা অনুযায়ী হিসাব থেকে অর্থ উত্তোলন করে নিয়মিত সহায়তা প্রদান করা হবে।
এছাড়া ভবিষ্যতেও যেন তাদের দেখভালে কোনো ধরনের ব্যত্যয় না ঘটে, সে লক্ষ্যে উপজেলা কার্যালয়ে একটি স্থায়ী সরকারি নথি সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা পরিবর্তন হলেও পরিবারটির প্রতি প্রশাসনিক নজরদারি ও সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, স্থানীয় কলেজ শিক্ষার্থী অমিত প্রথমে তিন ভাইয়ের করুণ অবস্থার বিষয়টি ইউএনও মো. সালেহ আহমেদের নজরে আনেন। বিষয়টি জানার পর ইউএনও তাৎক্ষণিকভাবে জেলা প্রশাসক ড. মো. শহীদ হোসেন চৌধুরীর পরামর্শ ও নির্দেশনায় তাদের জন্য নগদ অর্থ ও জরুরি খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করেন। একই সঙ্গে দ্রুততম সময়ে তাদের সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় আনার উদ্যোগও গ্রহণ করা হয়।
এদিকে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের এই মানবিক উদ্যোগ গণমাধ্যমে প্রচারের পর রাজনৈতিক, সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ দলমত নির্বিশেষে তিন ভাইয়ের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মানবিকতার এই অনন্য দৃষ্টান্ত এলাকায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।








