Logo

বুড়িচংয়ে কমছে তালগাছ, বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বুড়িচং, কুমিল্লা
১৬ জুন, ২০২৬, ১২:৫৫
বুড়িচংয়ে কমছে তালগাছ, বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে মৌসুমি ফল তালের শাঁস বিক্রিকে ঘিরে জমে উঠেছে বাজার। বিভিন্ন সড়ক, বাজার, স্কুল-কলেজের পাশ ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে প্রতিদিন দেখা মিলছে কাঁচা তাল বিক্রেতাদের। তবে একদিকে তালের শাঁসের চাহিদা বাড়লেও অন্যদিকে কমছে তালগাছ। ফলে বাড়ছে বজ্রপাতের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করছেন স্থানীয়রা।

বিজ্ঞাপন

বুড়িচং-কালিকাপুর সড়ক, কুমিল্লা-বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া সড়ক, কুমিল্লা-বাগড়া সড়ক, উপজেলা গেইট ও বুড়িচং বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে তাল বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। বর্তমানে প্রতিটি তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৪০ টাকায়। আর এক কুড়ি তালের শাঁস বিক্রি হচ্ছে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায়।

স্থানীয়দের মতে, কয়েক বছর আগেও সহজেই তাল পাওয়া যেত। কিন্তু এখন তালগাছ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। লড়িবাগ এলাকার বাসিন্দা আব্দুল মান্নান বলেন, আগে রাস্তার পাশে তালের রস বিক্রির দৃশ্য দেখা যেত, এখন তা প্রায় হারিয়ে গেছে। যেভাবে তালগাছ কাটা হচ্ছে, ভবিষ্যতে হয়তো এই ফলও পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে।

বিজ্ঞাপন

ক্রেতা সাহিদুল ইসলাম বলেন, তাল একটি সুস্বাদু ও উপকারী মৌসুমি ফল। তালগাছ কমে যাওয়ায় এর দাম বেড়েছে। গ্রামীণ ঐতিহ্য ধরে রাখতে সবাইকে তালগাছ লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া উচিত।

বুড়িচং প্রেস ক্লাবের সামনে তালের শাঁস বিক্রি করা ব্যবসায়ী মো. বাছির মিয়া বলেন, “আমি পাঁচ বছর ধরে এই ব্যবসা করছি। এ বছর তাল কম পাওয়া যাচ্ছে, তাই দামও বেশি।

বাকশীমূল ইউনিয়নের ব্যবসায়ী মো. সবুজ জানান, তিনি ১২ বছর ধরে তালের ব্যবসা করছেন। একসময় এক কুড়ি তাল ১৮০ টাকায় কিনতে পারলেও বর্তমানে তা ৭০০-৮০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে। তিনি বলেন, “আমি গাছ কিনে তাল সংগ্রহ করি। একটি গাছ থেকে ভালো লাভ হয়, তবে আগের মতো তালগাছ আর পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

বুড়িচং উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আফরিনা আক্তার বলেন, তালের শাঁস যেমন সুস্বাদু, তেমনি তালের রসও পুষ্টিকর। তালের রস থেকে গুড় ও মিছরি তৈরি করা হয়। তবে আবহাওয়ার পরিবর্তন ও বিভিন্ন কারণে তালগাছ কমে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বজ্রপাত সহনশীল হিসেবে তালগাছের বীজ ও চারা রোপণের কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে। তালগাছ শুধু ফল দেয় না, বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতেও ভূমিকা রাখে।

বিজ্ঞাপন

কৃষি অফিসের মতে, বুড়িচং উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৩০০টি তালগাছ রয়েছে। তবে গ্রামাঞ্চলে তালগাছের গুরুত্ব না বুঝে কেটে ফেলা এবং লাভজনক ফলনশীল গাছের দিকে ঝোঁকার কারণে দিন দিন এ সংখ্যা কমছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD