চুনারুঘাটে নাব্য সংকট ও দূষণে হুমকির মুখে দেশীয় মৎস্যসম্পদ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার খোয়াই, সুতাং ও করাঙ্গীসহ বিভিন্ন নদ-নদী, খাল ও নালায় নাব্য সংকট, দখল ও দূষণের কারণে বিপন্ন হয়ে পড়েছে দেশীয় প্রজাতির মাছ। একসময় এসব জলাশয়ে প্রচুর দেশীয় মাছ পাওয়া গেলেও বর্তমানে প্রাকৃতিক মৎস্য ভাণ্ডার ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
ভৌগোলিকভাবে পাহাড়বেষ্টিত এলাকা হওয়ায় চুনারুঘাটের পাহাড়ি ছড়া, নদী ও খালগুলোতে একসময় দেশীয় মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার ছিল। রুই, কাতলা, মৃগেল, বোয়াল, শোল, কই, মাগুর, শিং, পাবদা, টাকি ও বাইমসহ নানা প্রজাতির মাছ স্থানীয় মানুষের সহজলভ্য ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে জলাশয় ভরাট, পানির প্রবাহ কমে যাওয়া এবং প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়ায় এসব মাছ এখন অনেকটাই বিলুপ্তির পথে।
স্থানীয়রা জানান, নদী-খালগুলোতে অতিরিক্ত কচুরিপানা, ময়লা-আবর্জনা ও দূষিত বর্জ্য ফেলার কারণে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি দখল ও অবৈধভাবে জলাশয় ব্যবহারের কারণে মাছের বিচরণ ও প্রজননের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
বর্তমানে স্থানীয় বাজারগুলোতে দেশীয় মাছের পরিবর্তে চাষের পাঙাশ, তেলাপিয়া ও কার্প জাতীয় মাছের আধিপত্য দেখা যাচ্ছে। একসময় যে হাটবাজারে ৫০টিরও বেশি প্রজাতির দেশীয় মাছ পাওয়া যেত, এখন সেখানে এসব মাছ পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলাশয় ভরাট, অতিরিক্ত মাছ শিকার, নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার, কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক প্রয়োগ এবং প্রাকৃতিক প্রজনন ক্ষেত্র ধ্বংস হওয়াই দেশীয় মাছ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ।
বিজ্ঞাপন
চুনারুঘাট উপজেলা সহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. নুরে আলম সিদ্দিকী বলেন, খাল-নালায় নাব্য কমে যাওয়া, নিষিদ্ধ জাল ব্যবহার, কীটনাশক প্রয়োগ, বর্জ্য ফেলা এবং জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরার কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিক মৎস্যসম্পদ রক্ষায় নদী-খাল পুনঃখনন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং মাছের প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্থানীয় বাসিন্দারা দেশীয় মাছের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নদী-নালা খনন, দখল ও দূষণ বন্ধ এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।








