ভুয়া কাবিন ও প্রেমের ফাঁদে প্রবাসীর অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ভুয়া কাবিননামা তৈরি এবং প্রেমের সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে সৌদি আরব প্রবাসী এক নারীর কাছ থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার এক যুবকের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
অভিযুক্ত যুবক হলেন, গাংনী উপজেলার কল্যাণপুর গ্রামের আব্দুল্লাহ আল বাসেদ রিংকু (৩১)। তিনি স্থানীয় তেঁতুলবাড়িয়া ৯ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল বারীর ছেলে বলে জানা গেছে।
অন্যদিকে অভিযোগকারী প্রবাসী নারী শাহিনুর খাতুন বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নীলকুড়িয়া গ্রামের মিশনবাড়ি এলাকার আমির হোসেনের মেয়ে এবং বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত।
বিজ্ঞাপন
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের মাধ্যমে রিংকুর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। প্রথমে রিংকু নিজেকে সেনাবাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেন এবং নিজেকে নিম্ন আয়ের পরিবারের সন্তান হিসেবে উপস্থাপন করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় এবং প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
শাহিনুর খাতুন জানান, পরে রিংকু তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। স্থানীয়ভাবে ১ লাখ টাকা কাবিন ধার্য করে কথিতভাবে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়। এরপর সংসার ও ভবিষ্যৎ জীবনের বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা বলে রিংকু বিভিন্ন সময় টাকা চাইতে থাকেন। বিশ্বাসের ভিত্তিতে ধাপে ধাপে তাকে মোট ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা দেন তিনি।
ভুক্তভোগীর দাবি, টাকা নেওয়ার পর রিংকু ধীরে ধীরে যোগাযোগ কমিয়ে দেন এবং তার আচরণে সন্দেহ তৈরি হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, রিংকু আগে থেকেই বিবাহিত এবং তার একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। এরপর তিনি নিজেকে প্রতারণার শিকার বলে দাবি করেন।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগে আরও বলা হয়, বিয়ের বৈধতা দেখানোর জন্য একটি কাবিননামা দেওয়া হলেও পরে সেটি ভুয়া বলে সন্দেহ হয়। প্রেমের সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে তাকে মানসিকভাবে প্রভাবিত করে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহিনুর।
তবে অভিযুক্ত রিংকু অভিযোগ অস্বীকার না করে বলেন, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল এবং উভয়ের সম্মতিতেই ১ লাখ টাকা কাবিনে বিয়ে হয়েছে। তিনি জানান, একটি কাবিননামা নিজের হাতে তৈরি করা হয়েছিল। তবে তার দাবি, অর্থ লেনদেন সম্পর্কের অংশ ছিল এবং কিছু টাকা তিনি ফেরত দিয়েছেন। পারিবারিকভাবে সমঝোতা হলে তিনি শাহিনুরকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
রিংকুর বাবা আব্দুল বারী বলেন, বিষয়টি পারিবারিকভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে। ছেলে ভুল করেছে বলেও তিনি স্বীকার করেন।
এদিকে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করে বলেন, রিংকুর বিরুদ্ধে অনলাইন জুয়া এবং বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে অর্থ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
গাংনী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাদ্দিস মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








