গোসাইরহাটে ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে বড় ভাইকে হত্যার অভিযোগ

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের পট্টি এলাকায় পারিবারিক বিরোধ থামাতে গিয়ে বড় ভাই আমির হোসেন সরদার (৪৫) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ছোট ভাই জুয়েল সরদারের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত পলাতক রয়েছেন বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার।
বিজ্ঞাপন
নিহত আমির হোসেন সরদার পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে সবার বড় ছিলেন। তিনি স্থানীয়ভাবে দোকানদার হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয়। অভিযোগ রয়েছে, ছোট ভাই সোহেলের কিছু টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়কে কেন্দ্র করে জুয়েল সরদারের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিজ্ঞাপন
এ সময় বিরোধ থামাতে এগিয়ে আসেন আমির হোসেন সরদার। পরিবারের অভিযোগ, দুই ভাইকে শান্ত করার চেষ্টা ও জুয়েলকে শাসন করতে গেলে একপর্যায়ে জুয়েল পেছন দিক থেকে কাঠ দিয়ে আমির হোসেনের মাথায় আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান।
পরে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক ডা. আহসান আহমেদ জানান, হাসপাতালে আনার সময় রোগী অচেতন ও সংকটাপন্ন অবস্থায় ছিলেন। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়।
বিজ্ঞাপন
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, জুয়েল সরদার দীর্ঘদিন ধরে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
নিহতের বোন রাশিদা বেগম বলেন, ঘটনার সময় আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছিলাম। পরে দেখি আমার ভাই আহত অবস্থায় পড়ে আছে। জুয়েল পেছন থেকে আঘাত করেছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর থেকেই জুয়েল সরদার আত্মগোপনে রয়েছেন বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বোরহানউদ্দিন বলেন, ঘটনার তদন্ত চলছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ কাজ করছে।
বুধবার (১৭ জুন) ময়নাতদন্ত শেষে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।








