Logo

অনিশ্চয়তায় পুশ ইনের শিকার ৯ জন, তিন দিনেও ফেরত নেয়নি বিএসএফ

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
১৭ জুন, ২০২৬, ১৬:০৭
অনিশ্চয়তায় পুশ ইনের শিকার ৯ জন, তিন দিনেও ফেরত নেয়নি বিএসএফ
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রৌমারী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) কর্তৃক বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টার অভিযোগ ওঠা ৯ জন ব্যক্তি এখনো অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। ঘটনার ৭২ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও তাদের নিজেদের দায়িত্বে ফিরিয়ে নেয়নি বিএসএফ। ফলে শিশুসহ ওই ৯ জন সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করছেন।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার (১৪ জুন) ভোরে রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত এলাকায় পৃথকভাবে কয়েকজনকে বাংলাদেশে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। গয়টাপাড়া সীমান্ত দিয়ে ৬ জন এবং ইজলামারী সীমান্ত দিয়ে আরও ৩ জনকে প্রবেশ করানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা বিষয়টি টের পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় তারা ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেয়নি। ফলে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

ঘটনার পর পরিস্থিতি নিয়ে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ শুরু হয়। এ বিষয়ে বিজিবি ও বিএসএফের প্রতিনিধিদের মধ্যে পতাকা বৈঠকও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, বৈঠকে বিএসএফ তাদের বিরুদ্ধে ওঠা পুশইনের অভিযোগ অস্বীকার করেছে। পাশাপাশি সীমান্তে অবস্থানরত ওই ৯ জনকে নিজেদের নাগরিক বা দায়িত্বাধীন ব্যক্তি হিসেবে গ্রহণ করতেও তারা সম্মত হয়নি। ফলে বিষয়টির তাৎক্ষণিক কোনো সমাধান হয়নি।

এ অবস্থায় সীমান্তের শূন্যরেখা এলাকায় মানবিক সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে অবস্থান করায় তাদের নিরাপত্তা, খাদ্য ও প্রয়োজনীয় সহায়তার বিষয়টি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি সমাধানে কূটনৈতিক ও সীমান্ত পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের যথাযথ প্রক্রিয়ায় ফেরত নেওয়ার জন্য বিএসএফের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, সীমান্ত এলাকায় এমন পরিস্থিতি নতুন নয়। তবে শিশুসহ কয়েকজন মানুষ দিনের পর দিন শূন্যরেখায় অবস্থান করায় মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দ্রুত সমাধান প্রয়োজন বলে তারা মনে করছেন।

বিজ্ঞাপন

সীমান্তে দায়িত্বশীল সূত্রগুলো বলছে, বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের জন্য দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আরও আলোচনা হতে পারে। এদিকে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সংশ্লিষ্ট ৯ জনের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। ফলে কুড়িগ্রাম সীমান্তের ওই শূন্যরেখায় অপেক্ষার প্রহর যেন আরও দীর্ঘ হচ্ছে। বিজিবি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত সমাধানের আশা প্রকাশ করেছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD