১২ দিন ধরে বর্জ্য অপসারণ বন্ধ, ময়লার স্তূপে নাকাল তারাবোবাসী

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভায় প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম বন্ধ থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে জমে থাকা ময়লা-আবর্জনা এখন বিভিন্ন এলাকায় ছোট ছোট ভাগাড়ের রূপ নিয়েছে। দুর্গন্ধ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে দিন দিন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, গত ১২ দিন ধরে বাসাবাড়ি, দোকানপাট, বাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান থেকে জমা হওয়া বর্জ্য নিয়মিতভাবে অপসারণ করা হচ্ছে না। ফলে নির্ধারিত সেকেন্ডারি পয়েন্টগুলো উপচে পড়ে আশপাশের এলাকাতেও ময়লার স্তূপ তৈরি হয়েছে।
পৌর কর্তৃপক্ষ বলছে, বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদার পরিবর্তনের কারণে সাময়িক এই সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জানা গেছে, শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত তারাবো পৌরসভায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা লাখো মানুষের বসবাস। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিক বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এসব বর্জ্য প্রথমে বিভিন্ন সেকেন্ডারি সংগ্রহস্থলে জমা করা হয়, পরে সেখান থেকে নির্ধারিত স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, গত তিন বছর ধরে ঠিকাদার সাইফুল ইসলাম বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর নতুন টেন্ডারের মাধ্যমে মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন এ দায়িত্ব পান। কিন্তু দায়িত্ব পাওয়ার পরও এখনো তিনি বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করতে পারেননি।
ফলে সেকেন্ডারি সংগ্রহস্থলগুলোতে বর্জ্যের পরিমাণ দিন দিন বেড়েই চলেছে। বাসাবাড়ির আবর্জনার পাশাপাশি বাজার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পচনশীল বর্জ্য জমে আশপাশের পরিবেশ দূষিত হয়ে পড়েছে। অনেক স্থানে চলাচলকারীদের নাক-মুখ ঢেকে পথ চলতে হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন

নোয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাবুল হোসেন বলেন, একটি ‘এ’ গ্রেড পৌরসভার নাগরিক হয়েও তারা প্রত্যাশিত সেবা পাচ্ছেন না। দীর্ঘদিন ধরে ময়লা না সরানোর কারণে সড়কের পাশে এবং বিভিন্ন স্থানে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে, যা জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
বরাবো এলাকার আবুল হোসেনের ভাষ্য, প্রতিদিন বর্জ্য জমতে জমতে এখন অনেক সেকেন্ডারি পয়েন্ট ছোটখাটো ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। এতে শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, রোগবালাই ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। তিনি দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় নির্বাচনে কাউন্সিলর পদপ্রত্যাশী নজরুল ইসলাম বাদল বলেন, এলাকার মানুষের সঙ্গে দেখা করতে গেলে তারা সবচেয়ে বেশি অভিযোগ করছেন ময়লা অপসারণ নিয়ে। প্রতিটি ওয়ার্ডেই এখন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত নতুন ঠিকাদার আলতাফ হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং তারাবো পৌরসভার প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, বর্জ্য অপসারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ধরনের বর্জ্য পরিবহনের জন্য বিশেষ ধরনের যানবাহনের প্রয়োজন হয়, যা নতুন ঠিকাদারের কাছে প্রস্তুত ছিল না। তবে তাদের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই কার্যক্রম শুরু হবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শুরু না হলে চুক্তি বাতিল করে নতুন করে দরপত্র আহ্বানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
এদিকে স্থানীয়রা আশঙ্কা করছেন, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ না হলে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। ময়লার স্তূপ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ানোর পাশাপাশি মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্যও হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
পৌরবাসীর দাবি, দীর্ঘসূত্রতা না করে জরুরি ভিত্তিতে জমে থাকা বর্জ্য অপসারণ এবং নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চালু করা হোক। তাদের মতে, একটি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলের পৌরসভায় এমন পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।








