উত্তরাঞ্চলের ৪ জেলায় বন্যার আভাস, বাড়ছে নদ-নদীর পানি

দেশের অভ্যন্তরে টানা ভারি বৃষ্টিপাত এবং ভারতের অরুণাচল প্রদেশে অতিবৃষ্টির প্রভাবে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইতোমধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন জানিয়েছেন, অব্যাহত বৃষ্টিপাতের কারণে উত্তরাঞ্চলের এসব জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে স্থানীয়ভাবে বন্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে সিলেট বিভাগেও বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তা নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার বিকেলে ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এর আগের দিন একই সময়ে পানি ছিল বিপৎসীমার ৪১ সেন্টিমিটার নিচে। সকালে পানির উচ্চতা ছিল বিপৎসীমার মাত্র ১৩ সেন্টিমিটার নিচে।
নদীর পানি বাড়তে থাকায় লালমনিরহাটের বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল ও নদীতীরবর্তী এলাকার কিছু ফসলি জমি ইতোমধ্যে প্লাবিত হয়েছে।
অবিরাম বৃষ্টিপাতের কারণে সিলেট অঞ্চলেও আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমে স্বল্প সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের মধ্যে অন্যতম।
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়াবিদদের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সকাল থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ১৪০ দশমিক ৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। পরে শনিবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৩৫ দশমিক ২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।
ভারতের মেঘালয়সহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে টানা ভারি বৃষ্টির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ ও হবিগঞ্জ জেলার নদ-নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও আগামী তিন দিনে ভারতে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে এবং নদীগুলো বিপৎসীমা অতিক্রম করার ঝুঁকিতে রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ুর সক্রিয় প্রভাবে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক এলাকায় ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর সঙ্গে দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আবহাওয়াবিদ শাহীনুল ইসলাম বলেন, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত একটি লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিস্তৃত রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে এবং এই পরিস্থিতি অন্তত আরও তিন দিন স্থায়ী হতে পারে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য দেওয়া বিশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ী দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকায় বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টিরও সম্ভাবনা রয়েছে।








