Logo

কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কটিয়াদী, কিশোরগঞ্জ
২৭ জুন, ২০২৬, ১২:০৯
কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ডে ময়লার ভাগাড়, দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী
ছবি: প্রতিনিধি

কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে স্থায়ী ও পরিকল্পিত ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় শহরের বিভিন্ন এলাকার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে মহাসড়কের পাশে। এতে কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড ও কাঁচাবাজার সংলগ্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে বিশাল ময়লার ভাগাড়।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিন টনের পর টন বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষণ, স্বাস্থ্যঝুঁকি ও জনদুর্ভোগ বাড়লেও কার্যকর সমাধান মিলছে না বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

সরেজমিনে দেখা যায়, কটিয়াদী সদরের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় রাস্তার পাশে জমে থাকা ময়লার স্তূপ দূর থেকেই চোখে পড়ে। পচা-বাসি বর্জ্যের তীব্র দুর্গন্ধে পথচারী, যাত্রী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। শহরে প্রবেশের মুখেই এমন দৃশ্য নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকে।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌর এলাকার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে সংগ্রহ করা বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন না থাকায় বছরের পর বছর ধরে এই স্থানেই ময়লা ফেলা হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ২০ টন বা তারও বেশি বর্জ্য জমা হচ্ছে এখানে। নিয়মিত অপসারণ ও বৈজ্ঞানিক ব্যবস্থাপনার অভাবে ময়লার স্তূপ দিন দিন বড় হচ্ছে।

কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীরা জানান, গরম ও বর্ষার সময়ে দুর্গন্ধ আরও বেড়ে যায়। অনেক সময় নাক-মুখ ঢেকে দোকানে বসতে হয়। দুর্গন্ধের কারণে ক্রেতারাও বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন, ফলে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ী সারোয়ার বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা ফেলার কারণে মানুষ প্রতিদিন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে পথচারীদের নাক চেপে চলতে হয়। ময়লার কারণে যান চলাচলেও সমস্যা তৈরি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।

বিজ্ঞাপন

যাত্রী আব্দুল করিম বলেন, প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে হয়। কিন্তু বর্তমানে রাস্তার পাশ ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। অসহ্য দুর্গন্ধে চলাচল করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ ও স্থায়ী সমাধানের দাবি জানান তিনি।

রিকশাচালক রুবেল মিয়া বলেন, ময়লার কারণে রাস্তা সংকুচিত হয়ে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। দুর্গন্ধের কারণে মুখ ঢেকে চলাচল করতে হয়, যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।

বিজ্ঞাপন

ট্রাকচালক রেজোয়ান বলেন, রাস্তার পাশে ময়লা জমে থাকায় অনেক সময় চলাচলে সমস্যা হয় এবং দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।

স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ড না থাকার বিষয়টি স্বীকার করে পৌর প্রশাসক ও কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) লাবনী আক্তার তারানা বলেন, ২০০২ সালে পৌরসভা প্রতিষ্ঠার পরও স্থায়ী ডাম্পিং গ্রাউন্ডের ব্যবস্থা হয়নি। বর্তমানে উপযুক্ত জায়গা পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি জানান, চুরিয়াকোনা এলাকায় খাস জমিতে ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থানীয়দের বাধায় তা সম্ভব হয়নি। পরে সেখানে স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনা হওয়ায় জায়গাটি ব্যবহার করা যাচ্ছে না। আশ্রয়ণ প্রকল্পের কারণে খাস জমির পরিমাণও কমে গেছে। তবে জনবসতি থেকে দূরে সুবিধাজনক স্থানে নতুন জায়গা খোঁজা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

কিশোরগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাকিল মোহাম্মদ ফয়সাল বলেন, কটিয়াদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে। এর আগে এ বিষয়ে লিখিতভাবেও অবহিত করা হয়েছে। মহাসড়কের পাশে এভাবে বর্জ্য ফেলা সড়ক ও জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। বিষয়টি সমাধানে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD