মহেশপুরে অতিরিক্ত সেশন চার্জ আদায়ের অভিযোগ, রশিদ না দেওয়ায় ক্ষোভ

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন একাডেমিতে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নির্ধারিত নিয়মের বাইরে অতিরিক্ত সেশন চার্জ হিসেবে জনপ্রতি ২ হাজার ২৪০ টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে।
বিজ্ঞাপন
টাকা নেওয়ার পর অনেক শিক্ষার্থীকে রশিদ দেওয়া হচ্ছে না বলেও অভিযোগ করেছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। অভিভাবকদের অভিযোগ, গ্রামাঞ্চলের সাধারণ দিনমজুর ও কৃষিনির্ভর পরিবারের সন্তানদের জন্য একসঙ্গে এত টাকা পরিশোধ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত অর্থের চাপে অনেক পরিবার বিপাকে পড়েছে।
নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী আবদুর রহমান বলেন, আমাদের পরিবারের আয় সীমিত। ২ হাজার ২৪০ টাকা একসঙ্গে দেওয়া অনেকের জন্য কষ্টকর।
একই শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. নাহিদ হাসান বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের সহযোগিতার জায়গা। কিন্তু অতিরিক্ত অর্থের চাপ আমাদের ভোগান্তিতে ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইসরাত জাহান স্বর্ণ বলেন, টাকা নেওয়ার পর রশিদ না দিলে আদায়ের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, সহকারী শিক্ষক মো. রফিকুল ইসলামের আচরণ অনেক সময় অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী শারীরিক শাস্তি নিষিদ্ধ হলেও এখনো বেত ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
অভিভাবক সাইদুর রহমান বলেন, “আমরা চাই প্রতিষ্ঠান নিয়ম মেনে চলুক। অতিরিক্ত টাকা নিলে তার সঠিক হিসাব ও রশিদ দেওয়া উচিত। সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের বিষয়টি বিবেচনা করা দরকার।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে আলহাজ্ব মফিজ উদ্দিন একাডেমির প্রধান শিক্ষক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সেশন চার্জ কিছুটা বেশি নেওয়া হচ্ছে। তবে কেউ আবেদন করলে অতিরিক্ত টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আবু সাঈদ খানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
মহেশপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, “বিষয়টি আমার জানা ছিল না। এত টাকা আদায়ের কোনো নিয়ম নেই। আমি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আর্থিক স্বচ্ছতা ও শৃঙ্খলা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।








