স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে আনা নিয়ে তর্ক, নাতির হাতে দাদি খুন

গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলায় স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে বাড়িতে আনা নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরে দাদিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত হয়েছেন ফিরোজা বেগম (৫৫)। হামলায় আহত হয়েছেন তার স্বামী আব্দুল করিম (৬৫)। ঘটনার পর অভিযুক্ত নাতি শাকিল মিয়াকে (২৫) আটক করেছে পুলিশ।
বিজ্ঞাপন
বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে উপজেলার খামার পবনতাইর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার।
পুলিশ জানায়, আটক শাকিল মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা রফিকুল ইসলামের ছেলে। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করেন। প্রায় তিন মাস আগে তার বিয়ে হয়। বর্তমানে তার স্ত্রী বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার দুপুর পৌনে ১টার দিকে স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে নিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে শাকিলের সঙ্গে তার দাদি ফিরোজা বেগমের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে উত্তেজনা বেড়ে গেলে শাকিল ধারালো পাট কাটার বেকি দিয়ে ফিরোজা বেগমের হাত, পিঠসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে গুরুতর আহত ফিরোজা বেগমকে উদ্ধার করেন। প্রথমে তাকে সাঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়।
এ সময় হামলায় ফিরোজা বেগমের স্বামী আব্দুল করিমও আহত হন। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিজ্ঞাপন
ঘটনার পর বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শাকিলকে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে নিজেদের হেফাজতে নিয়ে থানায় নিয়ে যায়।
সাঘাটা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) উজ্জ্বল সরকার জানান, হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।
বিজ্ঞাপন
সাঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) পবিত্র কুমার বলেন, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, স্ত্রীকে শ্বশুরবাড়ি থেকে নিয়ে আসার বিষয়টি নিয়ে পারিবারিক বিরোধের জেরেই এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। তবে ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা অভিযোগ এবং তদন্তের মাধ্যমে বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।








