অবশেষে কক্সবাজার সৈকতের বালিয়াড়ির ঝুপড়ি দোকান সরানোর নির্দেশ

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বালিয়াড়িতে গড়ে ওঠা সব ঝুপড়ি দোকান ও অস্থায়ী স্থাপনা নিজ উদ্যোগে সরিয়ে নিতে চূড়ান্ত নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এসব স্থাপনা সরিয়ে না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পর্যটন শাখার দায়িত্বপ্রাপ্ত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহমুদুর রহমান সায়েম স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ তথ্য জানানো হয়। গত ১ জুন নির্দেশনাটি জারি করা হলেও বুধবার (১ জুলাই) সকালে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণাধীন বিচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির মাধ্যমে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত লঙ্ঘন করে সৈকতের বালিয়াড়িতে অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণ করে ব্যবসা পরিচালনা করায় পরিবেশ অধিদপ্তর ও পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী এসব অস্থায়ী ব্যবসার অনুমোদন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
এতে আরও জানানো হয়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের কোনো স্থানে নতুন করে আর কোনো অস্থায়ী কার্ড ইস্যু করা হবে না। বর্তমানে ইস্যুকৃত কার্ডের মেয়াদ ৩০ জুন ২০২৬ শেষ হওয়ার পর ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জন্য তা আর নবায়ন করা হবে না।
জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সৈকতের সব অস্থায়ী ব্যবসায়ীকে দ্রুত নিজ দায়িত্বে দোকান ও অন্যান্য স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। অন্যথায় যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে ঝুপড়ি দোকান, কিটকট (বিচ ছাতা), ঘোড়া, বিচ বাইক, ওয়াটার বাইকসহ বিভিন্ন ব্যবসার জন্য প্রতিবছর কয়েক হাজার অনুমতিপত্র দেওয়া হয়। এসব অনুমোদনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে সৈকতের বালিয়াড়িতে দখল ও অবৈধ স্থাপনা নিয়ে বিতর্ক চলে আসছে।
বিজ্ঞাপন
উল্লেখ্য, কক্সবাজার শহরের নাজিরারটেক থেকে টেকনাফ পর্যন্ত প্রায় ১২০ কিলোমিটার সমুদ্র সৈকত ১৯৯৯ সালে প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষণা করা হয়। আইন অনুযায়ী সৈকতের জোয়ার-ভাটার অঞ্চল থেকে ৩০০ মিটার পর্যন্ত বালিয়াড়িতে কোনো ধরনের স্থাপনা নির্মাণ ও উন্নয়ন নিষিদ্ধ।
এর আগে গত ৯ মার্চ কক্সবাজার জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সৈকতের অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে ১২ মার্চ জেলা প্রশাসনের নেতৃত্বে যৌথবাহিনী সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক হাজারের বেশি দোকান ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে।
বিজ্ঞাপন
তবে ঈদের আগে ও পরে আবারও সৈকতের বিভিন্ন এলাকায় ঝুপড়ি দোকান বসে যায়। গণমাধ্যমে বিষয়টি উঠে আসার পর নতুন করে এসব অস্থায়ী ব্যবসার কার্ড নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয় জেলা প্রশাসন।








