Logo

চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রশাসনের মাইকিং

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
৬ জুলাই, ২০২৬, ১৭:৫৬
চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের শঙ্কা, নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে প্রশাসনের মাইকিং
ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টিপাতের কারণে চট্টগ্রামে পাহাড়ধসের আশঙ্কা বাড়তে থাকায় ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নিতে মাঠে নেমেছে জেলা প্রশাসন। এ অবস্থায় রবিবার রাত থেকে ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ে বসবাসরতদের সরিয়ে আনতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। আজ সকালেও নগরের বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করা হয়।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে টাংকির পাহাড়, আমিন জুট মিল এলাকা, পাহাড়িকা, সমবায় আবাসিক এলাকা, সমসামিত গৃহ নির্মাণ এলাকা, মিয়ার পাহাড়, মুরাদপুর রেলস্টেশন সংলগ্ন রেলওয়ের পাহাড়সহ আশপাশের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে মাইকিং করে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছে।

তিনি জানান, শনিবার রাত থেকে চট্টগ্রামে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। মানুষের জানমাল রক্ষায় ছয়জন সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর নেতৃত্বে জেলা প্রশাসনের একাধিক দল মাঠে কাজ করছে। মাইকিংয়ের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রমও চলছে। আকবরশাহ ঝিল ১, ২ ও ৩ নম্বর এলাকা, বিজয়নগর পাহাড়, শান্তিনগর পাহাড় এবং বেলতলীঘোনা পাহাড় থেকে মানুষকে নিরাপদ স্থানে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বাকলিয়া সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিফাত বিনতে আরও জানান, মতিঝর্ণা সংলগ্ন ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড় এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। পাশাপাশি বাকলিয়া এলাকার নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদেরও সতর্ক করে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

আগ্রাবাদ সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হাসান তুরান বলেন, ‘লালখান বাজার পোড়া কলোনি বস্তি এলাকা, ঢেবারপাড়, আমবাগান সংলগ্ন পাহাড়ে বসবাসরত বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে মাইকিং করে সতর্ক করা হচ্ছে। এছাড়াও উত্তর হালিশহর সংলগ্ন সমুদ্রপাড়ের কাছে বসবাসকারী মানুষজনকে বাসস্থান খালি করতে মাইকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

টানা বৃষ্টির কারণে ছন্দপতন ঘটেছে নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনে। বই-খাতা হাতে বিদ্যালয়ের উদ্দেশে রাস্তায় বের হয় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এইচএসসি ও আলিম পরীক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি। সড়কে গাড়ি চলাচল কম থাকায় যানজট তেমন কোথাও দেখা যায়নি। তাছাড়া নগরের নিম্নাঞ্চলে এবার জলাবদ্ধতা তৈরি না হওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা রাতভর জলজটপ্রবণ এলাকাগুলোতে পানি নেমে যাওয়ার পথ তৈরি করে দিয়েছেন। মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন রবিবার রাতেই নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পরিদর্শন করে পানি নিষ্কাশন পরিস্থিতি, খাল-নালা ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মীদের দায়িত্ব পালনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করেন। চসিকের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশনের কারণে নগরবাসীর স্বাভাবিক চলাচল বজায় ছিল।

পরিদর্শনকালে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নগরবাসীকে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ থেকে মুক্ত রাখতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা ও প্রকৌশল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। খাল, নালা ও ড্রেন নিয়মিত পরিষ্কার এবং পানি প্রবাহ সচল রাখার ফলে সারাদিনের বৃষ্টির পরও নগরীতে কোনো উল্লেখযোগ্য জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়নি। এ অর্জন ধরে রাখতে নিয়মিত মনিটরিং ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে। কোথাও যাতে পানি জমে মানুষের দুর্ভোগ না হয়, সে বিষয়ে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি। নগরবাসীর সহযোগিতাও এক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’

চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন জানান, বৃষ্টির সময় প্রকল্প এলাকায় যাতে পানি জমে না থাকে, সে জন্য প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী মাইন উদ্দিনকে সার্বক্ষণিক তদারকির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি গভীর রাত পর্যন্ত সেনাবাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে নিম্নাঞ্চলের ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি প্রবাহ পর্যবেক্ষণ করেন।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এদিকে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী সাত দিন চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং এসব অঞ্চলের উজানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে পূর্বাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে বান্দরবান, কক্সবাজার, ফেনী, চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির কয়েকটি স্থানে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এসব জেলায় স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD