বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিক আহত, হাসপাতালে না নিয়ে কক্ষে আটকে রাখার অভিযোগ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার টোক ইউনিয়নের বীর উজলী বাজার এলাকায় অবস্থিত খাইরুল উম্মাহা ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসায় পরিচ্ছন্নতার কাজ করতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বাবুল মিয়া নামে এক শ্রমিক গুরুতর আহত হয়েছেন। আহত হওয়ার পর তাকে দ্রুত হাসপাতালে না নিয়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে দীর্ঘ সময় আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির মোহতামিম দিদারুল ইসলাম খাইরুলের বিরুদ্ধে।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৫ জুলাই) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। তবে রাত প্রায় ১০টার দিকে বিষয়টি জানাজানি হলে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত বাবুল মিয়াকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার বীর উজলী বাজারে হাজী রিয়াজ উদ্দিনের মালিকানাধীন একটি ভবনে ভাড়া নিয়ে পরিচালিত হচ্ছে খাইরুল উম্মাহা ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসা। পরিচ্ছন্নতার কাজের জন্য বড়চালা গ্রামের বাসিন্দা বাবুল মিয়াকে ওই দিন সকালে মাদ্রাসায় ডেকে নেওয়া হয়। কাজ করার একপর্যায়ে তিনি বিদ্যুতের সংস্পর্শে এসে গুরুতর আহত হন।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আহতের ছেলে শামিম অভিযোগ করে বলেন, সকালে খাইরুল হুজুর আমার বাবাকে কাজের জন্য ডেকে নিয়ে যান। কাজ করার সময় বিদ্যুতের শর্ট লেগে তিনি গুরুতর আহত হন। কিন্তু তাকে কোনো হাসপাতালে না নিয়ে মাদ্রাসার একটি কক্ষে রাখা হয়। রাত প্রায় ১০টার দিকে আমরা খবর পেয়ে সেখানে গিয়ে বাবাকে আহত অবস্থায় পাই। পরে তাকে উদ্ধার করে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই।
তিনি আরও জানান, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বাবুল মিয়াকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে রেফার করা হয়।
অভিযোগের বিষয়ে খাইরুল উম্মাহা ক্যাডেট স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার মোহতামিম দিদারুল ইসলাম খাইরুল বলেন, কাজ করার সময় তিনি বিদ্যুতের শর্ট খেয়ে আহত হন। তাকে মাদ্রাসার একটি কক্ষে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছিল।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে টোক-নয়ান বাজার পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপপরিদর্শক (এসআই) মাইন উদ্দিন বলেন, ঘটনার খবর পেয়ে বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।








