Logo

উদ্বোধনের ৮ বছরেও চালু হয়নি বাকেরগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতাল

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
বাবুগঞ্জ, বরিশাল
৩০ জুলাই, ২০২৬, ১৭:১৪
উদ্বোধনের ৮ বছরেও চালু হয়নি বাকেরগঞ্জের ৫০ শয্যার হাসপাতাল
ছবি: প্রতিনিধি

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসক স্বল্পতা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের চিকিৎসার একমাত্র সরকারি ভরসা এই হাসপাতালটি নানা সংকটে জর্জরিত থাকায় প্রতিদিনই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন রোগীরা।

বিজ্ঞাপন

১৪টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত বাকেরগঞ্জ উপজেলার মানুষের জন্য স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গুরুত্বপূর্ণ হলেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায় অনেক রোগী কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন না। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের বাধ্য হয়ে বরিশাল কিংবা ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে, এতে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই বাড়ছে দুর্ভোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় ৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ৫০ শয্যার নতুন ভবন উদ্বোধনের আট বছর পার হলেও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ না হওয়ায় সেটি এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে হাসপাতালটি এখনো ৩০ শয্যার কার্যক্রমেই সীমাবদ্ধ রয়েছে।

হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ রোগী চিকিৎসাসেবা নেন। এছাড়া আবাসিক ওয়ার্ডে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৬০ জন রোগী ভর্তি থাকেন। কিন্তু শয্যা সংকটের কারণে অনেক রোগীকেই হাসপাতালের মেঝেতে থেকে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোগীদের অভিযোগ, হাসপাতালের নারী ও পুরুষ ওয়ার্ডে দীর্ঘদিন ধরে অনেক বৈদ্যুতিক পাখা ও লাইট বিকল রয়েছে। তীব্র গরমে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এছাড়া হাসপাতালটিতে জেনারেটরের ব্যবস্থা না থাকায় বিদ্যুৎ চলে গেলে রাতের বেলায় রোগীদের অন্ধকারে থাকতে হয়।

হাসপাতালের আলট্রাসনোগ্রাফি ও এক্স-রে মেশিন প্রায় তিন বছর ধরে অচল থাকায় রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। অন্যদিকে হাসপাতালের তিনটি অ্যাম্বুলেন্সের মধ্যে দুটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ফলে জরুরি রোগীদের উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্যত্র পাঠাতে রোগীর স্বজনদের নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ৪০টি চিকিৎসক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১৮ জন। শূন্য রয়েছে ২২টি পদ। ৩৯টি নার্স পদের মধ্যে কর্মরত আছেন ৩৪ জন, শূন্য রয়েছে ৫টি পদ।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এছাড়া ৯টি উপসহকারী কমিউনিটি মেডিকেল অফিসার পদের মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ৫ জন, শূন্য রয়েছে ৪টি পদ। ৯টি ফার্মাসিস্ট পদের মধ্যে কর্মরত ৫ জন এবং শূন্য ৪টি। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ল্যাব) পদের মধ্যে একজন কর্মরত থাকলেও তিনি বর্তমানে প্রেষণে জয়পুরহাটে দায়িত্ব পালন করছেন। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (রেডিওলজি) ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট (ডেন্টাল) পদেও কোনো কর্মী নেই। এছাড়া পাঁচজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর বিপরীতে কর্মরত আছেন মাত্র দুজন এবং তিনটি ওয়ার্ডবয় পদের একটিতেও বর্তমানে কেউ কর্মরত নেই।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের পাশাপাশি চিকিৎসা সরঞ্জাম সচল করে ৫০ শয্যার হাসপাতালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হোক। এতে এলাকার মানুষ উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন।

বিজ্ঞাপন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুমি আক্তার জানান, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদা উল্লেখ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ইতোমধ্যে আবেদন পাঠানো হয়েছে।

বাকেরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিল্টন চন্দ্র পাল বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বিদ্যমান সমস্যাগুলো সমাধানে উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে।

বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. মনিরুজ্জামান জানান, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জনবল সংকট ও অন্যান্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD