Logo

টানেল মোড়ের দুর্ঘটনা, বাঁচানো গেল না গর্ভের সাত মাসের সন্তানকে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৩১ জুলাই, ২০২৬, ২০:৪৮
টানেল মোড়ের দুর্ঘটনা, বাঁচানো গেল না গর্ভের সাত মাসের সন্তানকে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার টানেল মোড়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন ইফা শীল ও পলি দত্ত নামে দুই নারী পোশাক শ্রমিক। একই দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা কাউসার আক্তার। চিকিৎসকদের সর্বোচ্চ চেষ্টার পরও তার গর্ভের সন্তানকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। শুক্রবার ভোরে তিনি মৃত এক পুত্রসন্তানের জন্ম দেন। বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় নিবিড় পরিচর্যা

বিজ্ঞাপন

কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কাউসার। এখনো তিনি জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) দুপুরে আনোয়ারা উপজেলার বারখাইন ইউনিয়নের ঝিওরি গ্রামে নবজাতক শিশুটিকে দাফন করা হয়। সন্তানের দাফন শেষে শোকাহত স্বামী মো. আরিফ দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের বাইরে অপেক্ষা করলেও তখনো জ্ঞান ফেরেনি তার স্ত্রীর।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় আট বছর ধরে কোরিয়ান ইপিজেডের (কেইপিজেড) একটি কারখানায় পোশাক শ্রমিক হিসেবে কাজ করছেন কাউসার আক্তার। তাদের সংসারে মো. রাফি (১০) ও তাবাসসুম (৫) নামের দুটি সন্তান রয়েছে। মায়ের আকস্মিক এই পরিণতিতে শিশু দুটি এখন দিশেহারা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কান্নাজড়িত কণ্ঠে কাউসারের শ্বশুর মো. নুরুন্নবী (৬০) বলেন, দুর্ঘটনায় আমার পুত্রবধূর মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লেগেছে। এখনো তার জ্ঞান ফেরেনি। ছোট মেয়ে তাবাসসুম কিছুক্ষণ পরপর কান্নাকাটি করে মাকে খুঁজছে। পেটের সন্তান তো বাঁচানো গেল না, আমি শুধু চাই আমার বউমা যেন সুস্থ হয়ে সন্তানদের কোলে ফিরে আসে।

আনোয়ারা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মজনু মিয়া জানান, বৃহস্পতিবার রাত প্রায় আটটার দিকে আনোয়ারা উপজেলার কর্ণফুলী টানেল সংযোগ সড়ক এলাকায় কোরিয়ান ইপিজেডের শ্রমিকবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাঁচটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও একটি ব্যাটারিচালিত রিকশাকে ধাক্কা দিয়ে সড়কের পাশের একটি দোকানের ভেতরে ঢুকে পড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই দুই নারী শ্রমিক নিহত হন এবং অন্তত ২০ জন আহত হন।

তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দ্রুত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে আহতদের স্থানীয় হাসপাতাল এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। গুরুতর আহতদের মধ্যে কাউসার আক্তারের অবস্থাই সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানায়, দুর্ঘটনায় জড়িত শ্রমিকবাহী বাস ও ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন জব্দ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD