বরিশালে বোমা সদৃশ বস্তু বিস্ফোরণে একই পরিবারে দগ্ধ ৩

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় বোমা সদৃশ একটি বস্তুর বিস্ফোরণে একই পরিবারের তিন সদস্য দগ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বিস্ফোরণের পর এলাকাজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হলেও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন— স্থানীয় বাসিন্দা শাহ আলম হাওলাদারের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি এবং নাতি ফাহিম।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল প্রায় ৬টার দিকে শাহ আলম হাওলাদারের বাড়ির পাশ থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ সময় ঘটনাস্থলে থাকা পরিবারের তিন সদস্য আগুনে দগ্ধ হন। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন।
আহতদের স্বজন জামাল হাওলাদার জানান, বাড়ির পাশে রাখা বালুভর্তি একটি বস্তার ভেতরে থাকা বোমা সদৃশ বস্তু হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মা, বোন ও ভাগিনার শরীরে আগুন ধরে যায়। আগুনের তীব্রতা থেকে বাঁচতে তারা বাড়ির সামনের তুলাতলা নদীতে ঝাঁপ দেন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখান থেকে অবস্থার অবনতি হওয়ায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিজ্ঞাপন
তিনি আরও বলেন, ওই বিস্ফোরক বা বোমা সদৃশ বস্তুটি সেখানে কীভাবে এল, সে বিষয়ে পরিবারের কারও কোনো ধারণা নেই।
ঘটনার খবর পেয়ে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকা ঘিরে ফেলে। পরে সেখান থেকে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করা হয়। একই সঙ্গে বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ এবং কী ধরনের বিস্ফোরক ব্যবহার করা হয়েছিল, তা জানতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। ব্যবহৃত বিস্ফোরকের ধরন এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা সম্ভব নয়।
বিজ্ঞাপন
পুলিশ জানিয়েছে, বিস্ফোরকের উৎস, ঘটনার পেছনের কারণ এবং সম্ভাব্য জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগও সৃষ্টি হয়েছে।








