Logo

কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
গাজীপুর
৩ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:১২
কাশিমপুর ভূমি অফিসের সব কর্মকর্তা-কর্মচারী বরখাস্ত
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে নানা অনিয়ম ও সেবাপ্রার্থীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে তহশিলদারসহ সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে জেলা প্রশাসন। আকস্মিক পরিদর্শনে অনিয়মের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক মো. নুরুল কবির ভূঁইয়া অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব), উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়ে কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিস পরিদর্শন করেন। এ সময় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগ শোনেন তিনি।

পরে অফিসের কার্যক্রম পর্যালোচনা করে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তহশিলদার ওয়াজেদ আলী খানসহ চারজনকে সাময়িক বরখাস্তের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধেও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসন জানায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমি অফিসে নামজারি, খারিজ, ভূমি উন্নয়ন কর আদায়, জমির রেকর্ড সংশোধনসহ বিভিন্ন সেবা পেতে ঘুষ দাবি, দালালের দৌরাত্ম্য, দায়িত্বে অবহেলা এবং অযৌক্তিক বিলম্বের অভিযোগ জমা পড়ছিল। এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই এবং তদন্তের পর প্রশাসন শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

বিজ্ঞাপন

প্রশাসনের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়েছে, সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কাশিমপুর ভূমি অফিসের কার্যক্রম সচল রাখতে বিকল্প কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ সেবা নিতে গিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে না পড়েন।

এদিকে বরখাস্তের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গাজীপুর জেলার সব ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীকে বরখাস্ত করা হয়েছে’—এমন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। তবে জেলা প্রশাসন বিষয়টি স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এ তথ্য সম্পূর্ণ বিভ্রান্তিকর। শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কেবল কাশিমপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়েছে। জেলার অন্য সব ভূমি অফিসে স্বাভাবিক কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

স্থানীয় সেবাপ্রার্থীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে ওই ভূমি অফিসে অতিরিক্ত অর্থ দাবি, ফাইল নিষ্পত্তিতে অস্বাভাবিক বিলম্ব এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের কারণে সাধারণ মানুষ নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছিলেন। প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপকে তারা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন এবং ভূমি সেবায় স্থায়ীভাবে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তে আরও অনিয়ম বা দুর্নীতির তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলার অন্যান্য ভূমি অফিসের কার্যক্রমও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা হচ্ছে, যাতে কোথাও অনিয়ম, দুর্নীতি বা হয়রানির সুযোগ সৃষ্টি না হয়।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD