Logo

উদ্বোধনের পাঁচ মাসেও হয়নি পার্ক, জমিতে দুলছে পাট

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মেহেরপুর
৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৩৯
উদ্বোধনের পাঁচ মাসেও হয়নি পার্ক, জমিতে দুলছে পাট
ছবি: প্রতিনিধি

ঝাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনে উদ্বোধন হলেও পাঁচ মাস পেরিয়ে গেছে, তবুও নির্মাণকাজের কোনো অগ্রগতি নেই। মেহেরপুর পৌরসভার ভৈরব নদীর তীরে নির্মাণের ঘোষণা দেওয়া উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার ও পার্ক এখন কেবল একটি নামফলকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ। প্রকল্পের জন্য নির্ধারিত সরকারি জমিতে বর্তমানে পাট চাষ হচ্ছে, আর উদ্বোধনী নামফলকটি আগাছা ও লতাপাতায় প্রায় ঢেকে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সরেজমিনে ভৈরব নদীর তীরবর্তী ওয়াকওয়ের পাশে নির্ধারিত প্রকল্প এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পার্ক বা ব্যায়ামাগারের কোনো অবকাঠামোর কাজ শুরুই হয়নি। যে জায়গায় নাগরিকদের জন্য আধুনিক ব্যায়ামাগার ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে ওঠার কথা ছিল, সেখানে এখন সবুজ পাটগাছ দুলছে। পুরো এলাকায় উন্নয়নকাজের কোনো দৃশ্যমান চিহ্নও পাওয়া যায়নি।

গত ৩১ মার্চ তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবির প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রকল্পটির নামফলক উন্মোচন করেন। সে সময় এটি মেহেরপুর পৌরবাসীর জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ হিসেবে ব্যাপক প্রশংসা পায়। বিশেষ করে ভৈরব নদীর ওয়াকওয়েতে নিয়মিত হাঁটতে আসা মানুষ আশা করেছিলেন, শিগগিরই সেখানে ব্যায়াম ও অবসরের জন্য একটি আধুনিক পরিবেশ গড়ে উঠবে।

কিন্তু বাস্তবে সেই প্রত্যাশার কোনো প্রতিফলন ঘটেনি। উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও প্রকল্প এলাকায় কোনো নির্মাণসামগ্রী, শ্রমিক কিংবা কাজের প্রস্তুতির চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং সরকারি জমি স্থানীয়ভাবে চাষাবাদের আওতায় চলে গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, জনস্বার্থে নেওয়া একটি প্রকল্পের এমন পরিণতি অত্যন্ত হতাশাজনক। তাদের মতে, ভিত্তিপ্রস্তর বা নামফলক উন্মোচনের পর প্রকল্প বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রতা প্রশাসনিক তদারকির ঘাটতিরই প্রতিফলন। দ্রুত জমি উদ্ধার করে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রকল্পের কাজ শুরু করার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাইদুর রহমান বলেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক সৈয়দ এনামুল কবিরের উদ্যোগে ভৈরব নদীর তীরে উন্মুক্ত ব্যায়ামাগার ও পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। তবে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ না থাকায় প্রকল্পটির বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

এদিকে স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ নিশ্চিত করে দ্রুত প্রকল্পের কাজ শুরু করা হবে। একই সঙ্গে সরকারি জমি দখলমুক্ত করে সেখানে ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ব্যায়ামাগার ও পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD