Logo

লোহাগড়ায় বিএনপির সমাবেশে মাইক কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
লোহাগড়া, নড়াইল
৬ আগস্ট, ২০২৬, ১৪:৩৯
লোহাগড়ায় বিএনপির সমাবেশে মাইক কেড়ে নেওয়াকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত

নড়াইলের লোহাগড়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত বিজয় র‍্যালি ও সমাবেশে বক্তব্য প্রদানকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ছাত্রদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসানের বক্তব্য চলাকালে বিএনপি নেতা অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর তার কাছ থেকে মাইক নিয়ে নেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

তবে অভিযোগ অস্বীকার না করে নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর দাবি করেছেন, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে—এমন বক্তব্য দেওয়ায় তিনি মাইকটি নিয়েছেন। বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সমাবেশে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা যায়, সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় ছাত্রদল নেতা ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসানের কাছ থেকে হঠাৎ মাইক নিয়ে নেন অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর। এ ঘটনায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে সাময়িক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

ঘটনার পর ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসানের সমর্থক ও কয়েকজন নেতাকর্মী এর নিন্দা জানান। তাদের ভাষ্য, দীর্ঘদিন দলীয় রাজনীতিতে সক্রিয় থাকা এবং রাজনৈতিক মামলায় কারাবরণ ও নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হওয়া একজন নেতার সঙ্গে এমন আচরণ অনাকাঙ্ক্ষিত।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ইঞ্জিনিয়ার তাইবুল হাসান বলেন, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তিনি দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে ছিলেন। তার দাবি, ২০২৩ সালে তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল এবং নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি দলের প্রতি নিজের অবস্থান থেকে সরে যাননি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর দীর্ঘদিন বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে তিনি কোনো নাশকতা মামলার আসামি হননি এবং নির্যাতনের শিকার নেতাকর্মীদের খোঁজখবরও নেননি। অথচ তার বক্তব্য চলাকালে প্রকাশ্যে মাইক কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, অ্যাডভোকেট নেওয়াজ আহমেদ নজরুল ঠাকুর বলেন, বক্তব্যের মধ্যে কিছু ত্রুটিপূর্ণ ও দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে পারে—এমন মন্তব্য থাকায় তিনি মাইকটি নিয়ে নেন।

এ বিষয়ে লোহাগড়া উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিমায়েত হোসেন বলেন, ওই অনুষ্ঠানে আমি উপস্থিত ছিলাম না। বিষয়টি সম্পর্কে আমাকে কেউ অবহিত করেনি।

ঘটনার পর কয়েকজন নেতাকর্মী দলীয় শৃঙ্খলা ও রাজনৈতিক শিষ্টাচার বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন। তাদের মতে, মতপার্থক্য থাকলেও প্রকাশ্যে কাউকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়া বা অপমান করা গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD