দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যা, বাবা আটক

সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে দুই সন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাদের বাবা কামরুল হাসানের বিরুদ্ধে। নিহত দুই শিশু হলো ৭ বছর বয়সী মোহাদ্দিস ও ৪ বছর বয়সী তুলনা আক্তার। তারা দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসানের সন্তান।
বিজ্ঞাপন
শিশু দুটির মরদেহ জেলার সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরের তীরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) তাদের বাবা কামরুল হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সন্তান দুটিকে হাওরে ফেলে দেওয়ার কথা তিনি স্বীকার করেছেন বলে দাবি করেছে পুলিশ।
দিরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শিশু দুটিকে হাওরে ফেলে হত্যার বিষয়টি সামনে এসেছে। তবে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ কারণ ও বিস্তারিত তথ্য তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
পুলিশ ও নিহত শিশুদের স্বজনদের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার স্ত্রী ফুলজান নেসার সঙ্গে কামরুল হাসানের পারিবারিক বিষয় নিয়ে ঝগড়া হয়। এরপর দুই সন্তান মোহাদ্দিস ও তুলনাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি সিলেটের উদ্দেশে বাড়ি ছাড়েন। সেখানে প্রায় দুই দিন অবস্থান করার পর রোববার তিনি সন্তানদের নিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেন।
তবে সোমবার রাতে কামরুল বাড়িতে ফিরলেও তার সঙ্গে দুই সন্তানকে দেখা যায়নি।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের সদস্যদের কাছে সন্তানদের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন ওঠার মধ্যেই কামরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফেসবুক লাইভে এসে তার দুই সন্তান হারিয়ে গেছে বলে জানান।
সন্তানদের খোঁজ চলার মধ্যেই মঙ্গলবার তুলনা আক্তারের মরদেহ হাওর থেকে ভেসে ওঠে। পরে বুধবার একইভাবে ছেলে মোহাদ্দিসের মরদেহও উদ্ধার করা হয়। দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধারের পর ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়। এরপর পুলিশ তাদের বাবা কামরুল হাসানকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কামরুল সন্তান দুটিকে হাওরে ফেলে দেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
শিশু দুটির মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে রাখা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে শিশু দুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার বিস্তারিত বিষয় আরও স্পষ্ট হবে।
বিজ্ঞাপন
পারিবারিক কলহ থেকে কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটল, ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না এবং শিশু দুটিকে ঠিক কোথায় ও কীভাবে হাওরে ফেলা হয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার পর নিহত শিশুদের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে দুই শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।








