Logo

নোয়াখালীতে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, বিপাকে ২৯ হাজার গ্রাহক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
নোয়াখালী
১২ আগস্ট, ২০২৬, ১৮:৪৮
নোয়াখালীতে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ, বিপাকে ২৯ হাজার গ্রাহক
ছবি: সংগৃহীত

এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে নোয়াখালীতে হঠাৎ পুরোপুরি গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুর ১২টা থেকে জেলার আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকেরা গ্যাসহীন অবস্থায় রয়েছেন। এতে প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ গ্রাহক এবং সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশন সরাসরি সংকটে পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন আবাসিক গ্রাহকেরা। রান্নাবান্না বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অনেক পরিবারকে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।

দুপুর থেকে পুরোপুরি বন্ধ সরবরাহ

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর ১২টার পর বাখরাবাদ গ্যাসের আওতাধীন নোয়াখালীর আবাসিক, বাণিজ্যিক ও সিএনজি গ্রাহকদের গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞাপন

এর আগে গত সপ্তাহ থেকেই জেলায় গ্যাসের চাপ কম ছিল। এতে অনেক এলাকায় চুলায় গ্যাসের সরবরাহ খুবই কমে যায়। চলতি সপ্তাহের শুরুতে পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হলেও বুধবার দুপুর থেকে সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরবরাহ কখন স্বাভাবিক হবে সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় জানানো সম্ভব হয়নি।

বিজ্ঞাপন

দৈনিক চাহিদা ১৬ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট

নোয়াখালীতে প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ১৭ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের চাহিদা রয়েছে। জেলার আবাসিক ও বাণিজ্যিক গ্রাহকদের পাশাপাশি সিএনজি স্টেশনগুলোও এই সরবরাহের ওপর নির্ভরশীল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রায় ২৯ হাজার আবাসিক গ্রাহক, ৩৫০ বাণিজ্যিক গ্রাহক এবং সাতটি সিএনজি ফিলিং স্টেশনে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।

বিজ্ঞাপন

গ্যাসের চাপ কম থাকার সময়ও স্থানীয় কয়েকটি গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত গ্যাস দিয়ে সীমিত পরিসরে সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল। কিন্তু বুধবার দুপুরের পর সেই ব্যবস্থাও আর কার্যকর থাকেনি।

রান্না বন্ধ, ভোগান্তিতে পরিবার

মাইজদীর লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার বাসিন্দা মনোয়ারা বেগম জানান, গত কয়েকদিন গ্যাসের চাপ কম থাকলেও দিনের কোনো একসময় চুলায় সামান্য গ্যাস পাওয়া যেত। তখন প্রয়োজনীয় রান্না করা সম্ভব হতো।

বিজ্ঞাপন

তবে বুধবার দুপুর থেকে চুলায় একেবারেই গ্যাস না থাকায় রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজে বড় ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনেক পরিবারকে এখন বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করে খাবার রান্নার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। হঠাৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ায় প্রস্তুতি ছাড়াই এ পরিস্থিতির মুখে পড়েছেন গ্রাহকেরা।

হোটেল-রেস্তোরাঁয় বাড়ছে খরচ

বিজ্ঞাপন

গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় নোয়াখালীর হোটেল ও রেস্তোরাঁগুলোর কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের কর্মীরা জানান, বুধবার সকাল পর্যন্ত রান্নাবান্না স্বাভাবিক ছিল। দুপুরের দিকে হঠাৎ গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় খাবার প্রস্তুত করা ও গ্রাহকদের সময়মতো খাবার পরিবেশন কঠিন হয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামাল দিতে অনেক হোটেল ও রেস্তোরাঁকে বেশি দামে সিলিন্ডার গ্যাস কিনে রান্নার কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে। এতে খাবার উৎপাদন ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ তৈরি হয়েছে।

এলএনজি টার্মিনালের সমস্যায় সংকট

বিজ্ঞাপন

বাখরাবাদ নোয়াখালীর ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ব্যবস্থাপক নূর করিম জানান, বুধবার দুপুর ১২টা থেকে ফেনী গ্রিডের প্রধান লাইনের মাধ্যমে নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর ও ফেনীতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রয়েছে।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

প্রাথমিকভাবে এলএনজি টার্মিনালে সমস্যার কারণে এ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানতে পেরেছেন তারা।

তিনি জানান, গত সপ্তাহে গ্যাসের সংকট থাকলেও নোয়াখালীর সোনাদলপুর ও বেগমগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত প্রায় ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস ব্যবহার করে কিছু এলাকায় সীমিত সরবরাহ চালু রাখা হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু বুধবার দুপুর থেকে জেলার সব এলাকায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে।

দ্রুত সরবরাহ চালুর দাবি

গ্যাস সরবরাহ বন্ধের নির্দিষ্ট কারণ ও স্বাভাবিক হওয়ার সময় নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে আবাসিক গ্রাহকেরা রান্নার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করতে গিয়ে অতিরিক্ত খরচের মুখে পড়ছেন।

অন্যদিকে হোটেল-রেস্তোরাঁ ও সিএনজি স্টেশনগুলোও সরবরাহ বন্ধ থাকায় ব্যবসায়িক ক্ষতির আশঙ্কা করছে।

কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করতে পারবে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো সময় জানাতে পারেনি। ফলে ভোগান্তি কমাতে দ্রুত সমস্যার সমাধান করে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন নোয়াখালীর গ্রাহকেরা।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD