Logo

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পে ক্ষতি, সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম
৮ আগস্ট, ২০২৬, ২০:০২
গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পে ক্ষতি, সুদ মওকুফ চায় চট্টগ্রাম চেম্বার
ছবি: সংগৃহীত

গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহের সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়া শিল্পকারখানাগুলোর ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের কিস্তি স্থগিত রাখার দাবি জানিয়েছে দি চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি।

বিজ্ঞাপন

একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সময় দেওয়ার পাশাপাশি এ সময়ে কোনো ধরনের জরিমানা না করারও দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

শনিবার (৮ আগস্ট) অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের কাছে পৃথক চিঠি পাঠিয়ে এসব দাবি জানানো হয়। চিঠিতে চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষর করেন।

অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্নের কারণে রপ্তানিমুখী পোশাক, বস্ত্র, প্লাস্টিকসহ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

চেম্বারের দাবি, জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। কোথাও কোথাও কর্মীদের ছাঁটাইয়ের মতো পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর বিক্রি ও রপ্তানি আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে উৎপাদন ও বিক্রয় কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

চিঠিতে বলা হয়, উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান তাদের উৎপাদন ব্যয়ও তুলতে পারছে না। এর পাশাপাশি কর্মীদের বেতন-ভাতা, ব্যাংক ঋণের সুদ, ইউটিলিটি বিলসহ নিয়মিত খরচ চালিয়ে যাওয়া উদ্যোক্তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের মতে, জ্বালানি সংকটের কারণে তৈরি হওয়া এই আর্থিক ক্ষতির প্রভাব আগামী কয়েক মাসও শিল্পোদ্যোক্তাদের বহন করতে হতে পারে।

সংগঠনটি বলছে, উদ্যোক্তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকা কারণে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে যখন বিক্রি ও রপ্তানি আয় কমে যাচ্ছে, তখন উচ্চ সুদের ব্যাংক ঋণের বোঝা বহন করা শিল্প খাতের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করবে।

বিজ্ঞাপন

এ ধরনের পরিস্থিতি দেশের শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার সরকারি উদ্যোগের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক হতে পারে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ অবস্থায় গার্মেন্টস ও অন্যান্য রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সব ধরনের শিল্পকারখানার ক্ষতি কিছুটা পুষিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করতে ব্যাংক ঋণের সুদ মওকুফ এবং তিন মাসের ঋণ কিস্তি স্থগিত রাখার ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর কাছে পাঠানো পৃথক চিঠিতে শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিল পরিশোধে ৯০ দিনের বিলম্ব সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

চেম্বার বলেছে, সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে শিল্পকারখানাগুলোর উৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে শিল্পমালিকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হয়েছে। এই ক্ষতির প্রভাব সামাল দিতে তাদের আরও কয়েক মাস সময় প্রয়োজন হবে।

বিজ্ঞাপন

শিল্পোদ্যোক্তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ দিতে কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

এর মধ্যে রয়েছে—কোনো শিল্পকারখানার গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ আপাতত বিচ্ছিন্ন না করা, অন্তত আগামী ছয় মাস কোনো জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধের সুযোগ দেওয়া এবং মাসিক বিল পরিশোধের প্রচলিত নিয়ম সাময়িকভাবে শিথিল করা।

এ ছাড়া জরিমানা ছাড়াই বিল পরিশোধের জন্য ৯০ দিনের একটি বিলম্ব সুবিধা বা মোরাটোরিয়াম দেওয়ার প্রস্তাবও করেছে সংগঠনটি।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম চেম্বারের মতে, এ ধরনের সুবিধা দেওয়া হলে জ্বালানি সরবরাহ সংকটের কারণে সৃষ্ট আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার সুযোগ পাবেন উদ্যোক্তারা। একই সঙ্গে শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক ও নিরবচ্ছিন্নভাবে চালু রাখা সম্ভব হবে।

এ জন্য গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না করা, জরিমানা ছাড়া বিল পরিশোধে ৯০ দিনের সময় দেওয়া এবং এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার জন্য বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে চট্টগ্রাম চেম্বার।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD