কয়রায় সংস্কারের বছর না পেরোতেই পিচের রাস্তা ঢুকে পড়েছে খালে

খুলনার কয়রা উপজেলায় সংস্কারের এক বছর না পেরোতেই একটি পিচের রাস্তার বিভিন্ন অংশ ভেঙে কাশীখালে ঢুকে পড়েছে। এতে সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। নিম্নমানের কাজ ও তদারকির অভাবে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) আওতায় কয়রা সদর ইউনিয়নের ৩ নম্বর কয়রা জিয়াদের মোড় থেকে ৬ নম্বর কয়রা টেপাখালী বাজার অভিমুখী সড়কটি কয়েক বছর সংস্কারের অভাবে পড়ে ছিল। পরে ২০২৫ সালের শেষ দিকে সড়কটির সংস্কারকাজ করা হয়। তবে কাজ শেষ হওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই সড়কের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দেওয়ায় কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বর্ষা মৌসুমে সদর ইউনিয়নের সরদার বাড়ি জামে মসজিদসংলগ্ন এলাকা থেকে কয়রা-কাশীরখাল দার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকা পর্যন্ত অন্তত পাঁচটি স্থানে সড়কের অংশ ধসে কাশীখালে পড়ে গেছে।
কয়রা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর কয়রা গ্রামের বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, সড়ক সংস্কারের সময় পর্যাপ্ত পরিমাণে নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়নি। কাজের সময় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ তদারকি না থাকায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দায়সারাভাবে কাজ শেষ করে চলে গেছে বলেও অভিযোগ তাদের।
বিজ্ঞাপন
অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে ওই এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, সড়কের পিচ ও প্লাস্টার করা গাইডওয়ালসহ রাস্তার পাশের মাটি এবং সড়কের সাইটের ইট ধসে কাশীখালে পড়ে গেছে। কয়েকটি স্থানে এমনভাবে ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে যে দুটি ভ্যান পাশাপাশি চলাচল করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। ভাঙন আরও বাড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, রাস্তার সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার এক বছরও না যেতেই বিভিন্ন অংশ ভেঙে পড়েছে। বর্ষার পানি ও স্রোতের কারণে ভাঙন আরও বাড়ছে। দ্রুত সংস্কার না করলে পুরো সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ইউপি সদস্য সরদার নাজমুস সাদাত (নাজমুল) বলেন, “রাস্তার বিষয়টি ইতোমধ্যে কয়রা উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছেন, বৃষ্টি কিছুটা কমে এলে ভেঙে যাওয়া জায়গাগুলো পুনরায় সংস্কার করে দেওয়া হবে।”
কয়রা উপজেলা এলজিইডির কর্মকর্তা মো. আফজাল হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা এসব কাজ করি না। আপনি খুলনা জেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর সঙ্গে যোগাযোগ করেন।”
পরে খুলনা জেলা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কামরুল ইসলামের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল বাকী বলেন, “রাস্তার বিষয়টি আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করব। ভেঙে যাওয়া অংশগুলো পুনরায় সংস্কার করে দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, রাস্তার ভাঙন দ্রুত মেরামতের পাশাপাশি সংস্কারকাজের মান যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।








