Logo

বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে: নুসরাতের মা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ফেনী
২৪ আগস্ট, ২০২৬, ১৭:০৬
বাড়িঘরে আগুন দেওয়ার হুমকি দিচ্ছে: নুসরাতের মা
ছবি: সংগৃহীত

ফেনীর সোনাগাজীর আলোচিত মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন তার মা শিরিন আক্তার। একই সঙ্গে পরিবারের ওপর হুমকির অভিযোগ তুলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে সোনাগাজী উপজেলার চরচান্দিয়া এলাকায় নিজ বাড়িতে রায় ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে এসব কথা বলেন নুসরাতের মা।

শিরিন আক্তার বলেন, ‘নুসরাত হত্যাকাণ্ডের পর এ ঘটনাকে অনেকে আত্মহত্যা বলে প্রচার করেছিল। কিন্তু আজ এই রায়ের মধ্য দিয়ে এটি হত্যাকাণ্ড হিসেবে আবারও প্রমাণিত হলো। আমি এ রায়ে সন্তুষ্ট, আলহামদুলিল্লাহ।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘বাড়িঘরে আগুন দিয়ে আমাদের শেষ করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি আমাদের পরিবারের নিরাপত্তা চাই।’

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ নুসরাত হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর রায় ঘোষণা করেন। প্রায় সোয়া দুই ঘণ্টা ধরে রায় পাঠ করা হয়। বেঞ্চের কনিষ্ঠ বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজা পুরো রায় পড়ে শোনান।

বিজ্ঞাপন

হাইকোর্ট তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা ও শাহাদাত হোসেন শামীমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখেছেন। একই সঙ্গে চার আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

যাবজ্জীবন পাওয়া চার আসামি হলেন উম্মে সুলতানা পপি, মোহাম্মদ নুরুদ্দিন, শাহাদাত হোসেন জাবেদ ও ইফতেখার হোসেন রানা।

খালাস পাওয়া ১০ আসামি হলেন মোহাম্মদ শামীম, রুহুল আমিন, আফসার উদ্দিন, মাকসুদ কাউন্সিলর, হাফেজ আব্দুল কাদের, আব্দুর রহিম শরীফ, ইমরান হোসেন মামুন, মহিউদ্দিন শাকিল এবং কামরুন নাহার মনি।

বিজ্ঞাপন

রায় ঘোষণার সময় আদালতে আসামিদের স্বজন ও নুসরাতের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট মামলার ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও জেল আপিলের ওপর শুনানি শেষ হয়।

নথিপত্র অনুযায়ী, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা তার কক্ষে ডেকে নুসরাতের শ্লীলতাহানি করেন। এ ঘটনায় মামলা হওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মামলা প্রত্যাহার না করায় ৬ এপ্রিল নুসরাতকে মাদরাসার ছাদে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে তার হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন থাকার পর ১০ এপ্রিল তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় মামলা করেন। পরে সেটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।

বিজ্ঞাপন

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর মামলাটির রায় ঘোষণা করেন। ওই রায়ে তৎকালীন অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য মামলার নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়। ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর নুসরাত হত্যা মামলার রায় ও সংশ্লিষ্ট নথি হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় পৌঁছায়। মামলাটি ডেথ রেফারেন্স হিসেবে ১৪০/১৯ নম্বরে নথিভুক্ত হয়। আসামিরাও পৃথকভাবে আপিল ও জেল আপিল করেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD