জরাজীর্ণ ঘরে থমকে আছে হাজারো মানুষের নাগরিক সেবা

একটি ইউনিয়ন পরিষদ সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র। জন্মনিবন্ধন, বিভিন্ন সনদ, সামাজিক নিরাপত্তাসহ নানা সেবা পেতে প্রতিদিন ইউনিয়ন পরিষদে ছুটে আসেন গ্রামের মানুষ। কিন্তু লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা ইউনিয়নের চিত্র ভিন্ন।
বিজ্ঞাপন
নিজস্ব ভবন না থাকায় বছরের পর বছর ধরে একটি ভাড়া করা জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে চলছে ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রম। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম, ভোগান্তিতে পড়ছেন হাজারো মানুষ।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সাতটিতে নিজস্ব ভবন ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থাকলেও মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদে নেই স্থায়ী অবকাঠামো। বছরের পর বছর ধরে নিজস্ব জমির অভাবে বাজার এলাকার একটি ভাড়া করা জরাজীর্ণ টিনশেড ভবনে চলছে পরিষদের কার্যক্রম।
স্থান সংকট ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে সরকার নির্ধারিত ইউনিয়ন পরিষদের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দপ্তরের সেবাও এখানে চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে সামান্য নাগরিক সেবা পেতেও অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয়দের উপজেলা সদরে যেতে হচ্ছে। এতে সময় ও অর্থ দুটোই ব্যয় হচ্ছে বলে জানান ভুক্তভোগীরা।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
সেবা পাওয়ার ন্যূনতম পরিবেশ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি বিভিন্ন সুবিধা হাতের কাছে থাকার কথা থাকলেও অবকাঠামোগত সংকটের কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
শুধু নতুন সেবা চালুর ক্ষেত্রেই নয়, পরিষদের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় কক্ষ ও আসবাবপত্রের অবস্থাও করুণ। বিরোধ মীমাংসা কিংবা ত্রাণ ও শস্য সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় গুদামঘরেরও কার্যকর ব্যবস্থা নেই। ফলে ইউনিয়ন পরিষদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনায় নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
বিজ্ঞাপন
এর সঙ্গে নতুন করে দুর্ভোগ বাড়িয়েছে পরিষদের পাশেই জমে থাকা বাজারের বর্জ্য। দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য পড়ে থাকায় দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে এমন পরিবেশের মধ্যেই অপেক্ষা করতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিষদের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশাসনিক কর্মকর্তার বক্তব্যেও উঠে এসেছে দীর্ঘদিনের এই অবকাঠামোগত সংকটের চিত্র। পর্যাপ্ত জায়গা ও সুযোগ-সুবিধার অভাবে প্রতিদিনের কাজ পরিচালনায় নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে জানা গেছে।
তবে দীর্ঘদিনের এই সংকট নিরসনে আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের জন্য নিজের ব্যক্তিগত জমি দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন মহিষখোচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। তাঁর এ উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
বিজ্ঞাপন
ইতিমধ্যে বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় স্থানটি পরিদর্শন করেছে উপজেলা প্রশাসন। সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতা দূর করে দ্রুত ইউনিয়ন পরিষদের নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। তাদের মতে, একটি আধুনিক ইউনিয়ন পরিষদ ভবন শুধু একটি স্থাপনা নয়—এটি একটি এলাকার মানুষের নাগরিক সেবা ও অধিকার নিশ্চিত করার স্থায়ী ঠিকানা। দ্রুত ভবন নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন মহিষখোচাবাসী।








