হাতকড়া পরেই মায়ের জানাজায় নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা

জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে দুই ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে সৎমায়ের জানাজা ও দাফনে অংশ নিয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা রাশেদুল ইসলাম। তবে প্যারোলে মুক্তি পেলেও পুরো সময় তার হাতে হাতকড়া ছিল ।
বিজ্ঞাপন
রাশেদুল ইসলাম জয়পুরহাট জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) হাতকড়া পরা অবস্থায় তার জানাজায় অংশ নেওয়ার ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।
রাশেদুল ক্ষেতলাল উপজেলার মামুদপুর ইউনিয়নের চৌমুনী বাজার এলাকার ধনতলা গ্রামের প্রয়াত শামসুদ্দীনের ছেলে। ২০২৪ সালের ছাত্র আন্দোলনকে কেন্দ্র করে করা একটি নাশকতার মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে গত ২২ আগস্ট থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার ভোরে অসুস্থতাজনিত কারণে রাশেদুলের সৎমা রহিমা বিবি মারা যান। তার জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে রাশেদুলকে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করা হয়।
বিজ্ঞাপন
পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য তাকে প্যারোলে মুক্তির অনুমতি দেওয়া হয়। এরপর পুলিশি পাহারায় কারাগার থেকে বের হয়ে রাশেদুল প্রথমে নিজ বাড়িতে যান। সেখানে হাতকড়া পরা অবস্থায় কিছু সময় সৎমায়ের মরদেহের পাশে অবস্থান করেন তিনি।
পরে একই অবস্থায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে সৎমায়ের জানাজায় অংশ নেন রাশেদুল ইসলাম। জানাজা শেষে দাফন কার্যক্রমেও তিনি হাতকড়া পরা অবস্থায় উপস্থিত ছিলেন। দাফন শেষ হওয়ার পর পুলিশি পাহারায় তাকে আবার জয়পুরহাট জেলা কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।
এ বিষয়ে জয়পুরহাট জেলা কারাগারের প্রধান কারারক্ষী রেজাউল করিম জানান, মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত রাশেদুল ইসলাম প্যারোলে মুক্ত ছিলেন।
বিজ্ঞাপন
জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার শাহনাজ বেগম বলেন, রাশেদুল ইসলাম প্যারোলে মুক্তি নিয়ে তার মায়ের জানাজায় অংশ নিতে গিয়েছিলেন। পুরো সময় তিনি পুলিশি পাহারায় ছিলেন। জানাজা ও দাফন শেষে তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়েছে।








