ভোলায় পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু রোধে সাঁতার প্রশিক্ষণ শুরু

পানিতে ডুবে শিশুদের অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু ঠেকানো এবং তাদের আত্মরক্ষার সক্ষমতা বাড়াতে ভোলায় শুরু হয়েছে ১৫ দিনব্যাপী বিশেষ সাঁতার প্রশিক্ষণ কর্মসূচি। জেলার বিভিন্ন এলাকার ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শতাধিক শিশু এতে অংশ নিয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ভোলা জেলা ক্রীড়া সংস্থার উদ্যোগে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠসংলগ্ন ভোলা জেলা সুইমিংপুলে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। জেলা ক্রীড়া সংস্থার সদস্য সচিব মুনতাসীর আলম চৌধুরী রবিন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করেন।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিনেই বিভিন্ন বয়সী শিশুদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। স্বতঃস্ফূর্তভাবে তারা প্রশিক্ষণে অংশ নেয়। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শুধু সাঁতার শেখানো নয়, পানিতে দুর্ঘটনার সময় কীভাবে নিজেকে নিরাপদ রাখা যায়, সে বিষয়েও শিশুদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা সাপাতুল ইসলাম, ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (কোয়াব) ভোলা জেলা শাখার সভাপতি কামরুল ইসলাম সৈকত, জেলা রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আল আমিন শাহরিয়ার, ভোলা আব্দুর রব স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম এবং জেলা মার্শাল আর্ট কোচ মো. আব্দুর রহমান হেলালসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিজ্ঞাপন
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রতিবছর দেশের বিভিন্ন স্থানে পানিতে ডুবে অনেক শিশুর মৃত্যু হচ্ছে। সাঁতার না জানার কারণে পানিতে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হলে অনেক শিশুই নিজেকে রক্ষা করতে পারে না। ফলে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সাঁতারের পাশাপাশি পানিতে নিরাপদ থাকার কৌশল শেখানো প্রয়োজন।
তারা আরও বলেন, সাঁতারকে কেবল একটি খেলাধুলা হিসেবে দেখলে হবে না; এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ জীবন রক্ষাকারী দক্ষতাও। পানিতে হঠাৎ বিপদের মুখে পড়লে কীভাবে ভেসে থাকতে হবে এবং নিরাপদে তীরে ফেরার চেষ্টা করতে হবে—এসব বিষয়ে শিশুদের ধারণা থাকা জরুরি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ দিনের এ প্রশিক্ষণে শিশুদের পানির ভয় কাটানো, পানিতে ভেসে থাকার কৌশল, সঠিকভাবে সাঁতার কাটা এবং বিপদের সময় আত্মরক্ষার বিভিন্ন পদ্ধতি শেখানো হবে। অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের তত্ত্বাবধানে প্রতিদিন সকালে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
সাঁতারের পাশাপাশি শিশুদের পানিতে নিরাপত্তা বজায় রাখা এবং প্রাথমিক লাইফ সেভিং বা জীবন রক্ষার কৌশলও হাতে-কলমে শেখানো হবে। এর মাধ্যমে পানিতে দুর্ঘটনার সময় আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো মানসিক প্রস্তুতি তৈরি হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বর্তমানে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ায় এ ধরনের প্রশিক্ষণের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে জানান আয়োজকরা। তাদের মতে, শিশুদের নিরাপদ রাখতে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সাঁতার শেখানোর উদ্যোগ বাড়ানো দরকার।
বিজ্ঞাপন
১৫ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ভোলার বিভিন্ন এলাকার শতাধিক শিশু অংশ নিয়েছে। আয়োজকদের প্রত্যাশা, প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারীরা সাঁতারে দক্ষ হওয়ার পাশাপাশি পানিতে বিপদ মোকাবিলার প্রয়োজনীয় আত্মবিশ্বাস অর্জন করবে। প্রয়োজনে নিজেদের পাশাপাশি অন্য কাউকেও উদ্ধারে প্রাথমিকভাবে সহায়তা করার সক্ষমতাও তাদের তৈরি হবে।
প্রশিক্ষণের প্রথম দিন শিশুদের পাশাপাশি অভিভাবকদের মধ্যেও উৎসাহ দেখা গেছে। অনেক অভিভাবক এমন উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রয়োজনীয় বলে উল্লেখ করেছেন।
অভিভাবকদের মতে, শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলার গুরুত্ব থাকলেও সাঁতারের মতো জীবন রক্ষাকারী দক্ষতা শেখার সুযোগ আরও বেশি তৈরি করা দরকার। বিশেষ করে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি বিবেচনায় এ ধরনের প্রশিক্ষণ তাদের সন্তানদের নিরাপত্তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।








