১০ গ্রামের একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষায় নগরকান্দায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন

ফরিদপুরের নগরকান্দায় প্রায় ১০ গ্রামের মানুষের একমাত্র খেলার মাঠ রক্ষার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় যুবসমাজসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। কর্মসূচিতে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ অংশ নেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার বাগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বাগাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের মাঠটি দীর্ঘদিন ধরে আশপাশের কয়েকটি গ্রামের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলার অন্যতম প্রধান স্থান। এখানে নিয়মিত ফুটবল, ক্রিকেটসহ বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলার আয়োজন হয়ে থাকে। ফলে মাঠটি স্থানীয়দের কাছে শুধু বিনোদনের জায়গা নয়, শিশু-কিশোরদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ একটি মাধ্যম।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সম্প্রতি সরকারের পক্ষ থেকে ওই মাঠে আশ্রয়ণ প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে মাঠটি খেলাধুলার জন্য আর ব্যবহার করা সম্ভব হবে না বলে আশঙ্কা করছেন তারা। এতে এলাকার শিশু-কিশোর ও তরুণরা খেলাধুলার সুযোগ হারাবে।
বক্তারা আরও বলেন, খেলার মাঠ না থাকলে উঠতি বয়সী তরুণদের একটি অংশ মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। তাই একটি মাঠকে শুধু জমি হিসেবে বিবেচনা না করে এর সামাজিক ও ক্রীড়া গুরুত্বও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া স্থানীয়রা জানান, তারা আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রয়োজনীয়তার বিরোধিতা করছেন না। তবে খেলার মাঠ অক্ষত রেখে অন্য কোনো উপযুক্ত স্থানে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হলে তাদের কোনো আপত্তি থাকবে না। এ জন্য প্রকল্পের স্থান পুনর্বিবেচনা করে মাঠটি সংরক্ষণের দাবি জানান তারা।
কর্মসূচিতে স্থানীয় যুবসমাজসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন। একই সঙ্গে মাঠ রক্ষার দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের ভাষ্য, মাঠটি হারালে শুধু একটি খেলার স্থানই হারাবে না; এর সঙ্গে প্রায় ১০ গ্রামের শিশু-কিশোর ও তরুণদের খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সুস্থ বিনোদনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগও বন্ধ হয়ে যাবে। তাই আশ্রয়ণ প্রকল্পের প্রয়োজন মেটানোর পাশাপাশি মাঠটি সংরক্ষণের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।








