পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত অন্তত ১৪ জন

পঞ্চগড়ে বিএনপির দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত জেলা শহরের তেঁতুলিয়া রোডের এমআর কলেজ মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত চারজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা জানান, পঞ্চগড়-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার নওশাদ জমিরের কর্মী-সমর্থকেরা তেঁতুলিয়া বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে মিছিল নিয়ে এমআর কলেজ মোড়ের দিকে আসেন। এ সময় সেখানে অবস্থানরত পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড়-২ আসনের সংসদ সদস্য ফরহাদ হোসেন আজাদের কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে তাদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
একপর্যায়ে উভয় পক্ষের নেতাকর্মীরা লাঠি হাতে মহাসড়কে অবস্থান নেন এবং পরস্পরের দিকে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এতে সংঘর্ষের সৃষ্টি হলে উভয় পক্ষের অন্তত ১৪ জন আহত হন।
বিজ্ঞাপন
সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া জাতীয় মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে। সড়কের দুই পাশে কয়েকশ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিবার সকালে জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় বক্তব্যকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে উত্তেজনা ও হট্টগোলের সৃষ্টি হয়। এরপর থেকেই দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এরই ধারাবাহিকতায় রাতে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার রেজওয়ানুল্লাহ বলেন, মোট ১১ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজনকে রেফার করা হয়েছে। অনেকে মাথায় আঘাত পেয়েছেন। আমরা জেনেছি যে, রাজনৈতিক মারামারিতে তারা আহত হয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শইমী ইমতিয়াজ বলেন, দুই পক্ষের মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি আমাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। পরবর্তিতে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।








