Logo

ভোলায় এক মাসে তিন গুণ বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
ভোলা
১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১১:৩২
ভোলায় এক মাসে তিন গুণ বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী
ছবি: প্রতিনিধি

বর্ষার শেষ ও শরতের শুরুর সময়ে ভোলায় হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গু জ্বরের প্রকোপ। গত এক মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা তিন গুণের বেশি বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতালগুলোতে তৈরি হয়েছে বেড সংকট। পর্যাপ্ত শয্যা না থাকায় অনেক রোগীকে হাসপাতালের মেঝেতে থেকেই চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ভোলা জেলার সাত উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হচ্ছেন। রোগীর চাপ বাড়ায় চিকিৎসক ও নার্সদেরও অতিরিক্ত চাপ সামলাতে হচ্ছে। বিশেষ করে ভোলা সদর হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরেই প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংকট রয়েছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্ট থেকেই ভোলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পৃথক দুটি ডেঙ্গু ইউনিট চালু করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ওই দুটি ইউনিটের শয্যাও রোগীর তুলনায় পর্যাপ্ত নয়। ফলে বাধ্য হয়ে কয়েকজন রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে।

হাসপাতালে মেঝেতে রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার কারণে একদিকে যেমন ভোগান্তি বাড়ছে, অন্যদিকে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত রোগীর চাপের কারণে চিকিৎসক ও নার্সদের নিয়মিত সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভোলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, জুলাই মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন ৬৫ জন। আগস্টে সেই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৯৮ জনে। এরপর সেপ্টেম্বরের ১২ তারিখ পর্যন্ত নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ১২৯ জন। চলতি বছরের গত নয় মাসে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন মোট ৪৬৬ জন।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ভোলা সদরসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত ৩১ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

ভোলা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, ডেঙ্গুর প্রকোপ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ডেঙ্গুর জন্য ১৫/১৬টি বেড রয়েছে। রোগী আরো বাড়লে আমাদের বিপাকে পরতে হবে। এরপরেও আমরা চিকিৎসার জন্য যা যা প্রয়োজন তা করার সর্বাত্নক চেষ্টা করছি।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন থাকার পাশাপাশি বাড়ির আশপাশে বৃষ্টির পানি জমে থাকতে না দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকতে নিয়মিত মশারি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেন এই চিকিৎসক।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD