Logo

আত্মগোপন থেকে ফেরার পর ঘরে ঢুকে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুমিল্লা
১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৭:২২
আত্মগোপন থেকে ফেরার পর ঘরে ঢুকে নিষিদ্ধ যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হত্যা
ছবি: সংগৃহীত

কুমিল্লার মুরাদনগরে মো. আনোয়ার হোসেন (৪০) নামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের এক নেতাকে নিজ বাড়িতে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ভোর ৪টার দিকে উপজেলার উত্তর পেন্নই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

নিহত আনোয়ার শ্রীকাইল ইউনিয়ন পরিষদের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য এবং একই ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ছিলেন।

পরিবারের অভিযোগ, সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল ব্যক্তি আনোয়ারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তাকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। এ সময় স্বামীকে রক্ষা করতে এগিয়ে গিয়ে আনোয়ারের স্ত্রী মোমেনা বেগমও আহত হন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, প্রায় আড়াই বছর ধরে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে ছিলেন আনোয়ার। শনিবার গভীর রাতে গোপনে তিনি বাড়িতে ফেরেন। তার ফিরে আসার খবর পেয়ে রাত সাড়ে ৩টার দিকে ফিরোজ হোসেনের নেতৃত্বে একদল লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের বাড়িতে যায়। পরে আনোয়ারকে কুপিয়ে আহত করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মোমেনা বেগমের ভাষ্য, হামলার পর ঘটনাটি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এলাকায় ডাকাত পড়েছে বলে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়। আহত আনোয়ারকে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও তাদের আটকে রাখা হয়। পরে বাঙ্গরা বাজার থানা-পুলিশের সহায়তায় সকাল ৬টার দিকে তাকে উদ্ধার করে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক নাজমুস সাকির জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর পরীক্ষা করে আনোয়ারকে মৃত পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

নিহতের চাচাতো ভাই মো. জসিম উদ্দিনের দাবি, কিছুদিন আগে আনোয়ার গ্রামে ফেরার চেষ্টা করলে ফিরোজ হোসেনের লোকজন তার কাছে ১০ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দিলে এলাকায় ফিরলে তাকে হত্যা করা হবে বলেও হুমকি দেওয়া হয়েছিল বলে জানান তিনি। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়ে আনোয়ারকে হত্যা করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আনোয়ার কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য প্রার্থী ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনের পক্ষে কাজ করেছিলেন। অন্যদিকে সাবেক ইউপি সদস্য ফিরোজ হোসেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম সরকারের পক্ষে ছিলেন। ওই নির্বাচনে ইউসুফ আবদুল্লাহ হারুনকে হারিয়ে জয়ী হন জাহাঙ্গীর আলম সরকার।

তবে বাঙ্গরা বাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শফিউল আলম বলেন, আনোয়ার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং মারামারির ঘটনায় তার বিরুদ্ধে থানায় পাঁচটি মামলা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ জানিয়েছে, আনোয়ারের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি।

জেবি/জেএইচআর

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD