কাপ্তাইয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জাতীয় গ্রিডের তার, আতঙ্কে অর্ধশত পরিবার

রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ছয় দশকেরও বেশি পুরোনো জাতীয় গ্রিডের ১৩২ কেভি (১ লাখ ৩২ হাজার ভোল্ট) উচ্চক্ষমতার সঞ্চালন লাইন এখন ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উপজেলার শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকা সংলগ্ন ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী সঞ্চালন তার নিচের দিকে হেলে মাত্র ১৫ থেকে ২০ ফুট উচ্চতায় ঝুলে রয়েছে। এতে ওই লাইনের নিচে ও আশপাশে বসবাসকারী অর্ধশত পরিবার প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কায় রয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ষাটের দশকে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর পর উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের জন্য সঞ্চালন লাইনটি স্থাপন করা হয়। নির্মাণের সময় নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উচ্চতায় স্থাপন করা হলেও ছয় দশকের বেশি সময় ধরে ব্যবহারের পর লাইনটির বিভিন্ন অংশে বয়সজনিত সমস্যা দেখা দিয়েছে।
দীর্ঘদিনের পুরোনো এ লাইনের পিলার ও সঞ্চালন তারের বর্তমান অবস্থা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তারগুলো নিচের দিকে নেমে আসায় সেগুলোর ঠিক নিচ দিয়ে প্রতিদিন সাধারণ মানুষ চলাচল করছেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাহাড়ি কৃষিজমিতে যাতায়াতের পথও এসব তারের নিচ দিয়ে গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. নাসির উদ্দীন বলেন, সামান্য ঝড়-বৃষ্টি হলেই গাছের ডালপালা কিংবা পাতা তারের ওপর পড়ে বিকট শব্দে শর্টসার্কিট হয়। কয়েক বছর আগে এই এলাকায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেলাল নামে এক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন বলেও জানান তিনি।
বিজ্ঞাপন
বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে দ্রুত সঞ্চালন তারগুলো আরও উঁচুতে তুলে নিরাপদ দূরত্বে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এই বাসিন্দা।
সরেজমিনে শীলছড়ি ওয়াপদা এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও চলাচলের রাস্তার ওপর দিয়ে জাতীয় গ্রিডের উচ্চক্ষমতার তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ঝুলে রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় দপ্তরে একাধিকবার মৌখিকভাবে জানানো হলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
এ বিষয়ে রাঙামাটি পাওয়ার গ্রিডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর কান্তি নাথের সঙ্গে রোববার কথা হলে তিনি জানান, সঞ্চালন লাইনটি স্থাপনের সময় ওই এলাকায় কোনো বসতি ছিল না। এ কারণে টাওয়ারগুলো নির্দিষ্ট দূরত্বে স্থাপন করা হয়েছিল। দীর্ঘ ছয় দশকের পুরোনো হওয়ায় লাইনটির কিছু অংশ নিচের দিকে নেমে এসেছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। কিছুদিন আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করে বিস্তারিত পর্যবেক্ষণ করেছেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
সুবীর কান্তি নাথ বলেন, কাজটি বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগবে। কারণ, সংস্কারকাজ শুরুর আগে প্রয়োজনীয় টেকনিক্যাল বিষয় যাচাই-বাছাই করতে হবে। এরপর আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে কাজ শুরু হবে।
বিজ্ঞাপন
তিনি জানান, সঞ্চালন লাইনটি সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত বিস্তৃত। এরই মধ্যে হাটহাজারী থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ পর্যন্ত সঞ্চালন লাইনের সংস্কারকাজ আন্তর্জাতিক টেন্ডারের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই জাতীয় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষের উচিত শীলছড়ি এলাকার ৯২৩ ও ৯২৪ নম্বর পিলারসহ ঝুঁকিপূর্ণ অংশ দ্রুত সংস্কার করা। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদ ঝুঁকিমুক্ত রাখা সম্ভব হবে।








