Logo

বিদ্যুৎ নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ, জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে লোডশেডিং

profile picture
নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১৪:১৬
বিদ্যুৎ নিয়ে আবারও দুঃসংবাদ, জাতীয় গ্রিডে বাড়ছে লোডশেডিং
ছবি: সংগৃহীত

কয়লা সংকট কাটিয়ে উৎপাদন বাড়ানোর পর আবারও কারিগরি সমস্যায় পড়েছে ভারতের ঝাড়খন্ডে অবস্থিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র। কারিগরি ত্রুটির কারণে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এতে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়ে দেশের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন কমতে শুরু করে। প্রায় এক মাস সীমিত উৎপাদনের পর গত মাসের শেষ দিকে কেন্দ্রটি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক উৎপাদনের দিকে ফিরছিল। এর মধ্যেই একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির তথ্য অনুযায়ী, ৯ সেপ্টেম্বর রাত ৯টার পিক সময়ে আদানির কেন্দ্র থেকে জাতীয় গ্রিডে ১ হাজার ৪৩০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হয়েছিল। তবে এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর থেকেই সরবরাহ কমতে শুরু করে।

বিজ্ঞাপন

পরদিন ১০ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পিক সময়ে আদানির কেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ পাওয়া যায় মাত্র ৬৯১ মেগাওয়াট। ১১ সেপ্টেম্বরও সরবরাহ ৭০০ মেগাওয়াটের আশপাশে ওঠানামা করছে। অথচ স্বাভাবিক সময়ে কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ হতো।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বর্তমানে বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় আদানির কেন্দ্রের একটি ইউনিট বন্ধ হওয়ার প্রভাব সরাসরি জাতীয় গ্রিডে পড়ছে। উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিংয়ের মাত্রাও বেড়েছে।

কারিগরি ত্রুটি দ্রুত মেরামত করে বন্ধ ইউনিটটি চালু করা সম্ভব হলে কেন্দ্রটির উৎপাদন আবার বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ইউনিটটি ঠিক কবে নাগাদ পুনরায় উৎপাদনে ফিরবে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা জানা যায়নি।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির এই কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের মোট উৎপাদন ক্ষমতা ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটিতে ৮০০ মেগাওয়াট করে দুটি ইউনিট রয়েছে। একটি ইউনিট বন্ধ থাকায় বর্তমানে কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতার বড় একটি অংশ ব্যবহার করা যাচ্ছে না।

২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। চুক্তির আওতায় কেন্দ্রটি থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে জ্বালানি সংকটের মধ্যেও চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে পিডিবি। এর মধ্যে আদানির কেন্দ্র থেকে সরবরাহ কমে যাওয়ায় জাতীয় গ্রিডের ওপর চাপ আরও বেড়েছে। ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি সামাল দিতে বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বাড়ানোর প্রয়োজন হচ্ছে।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD