কাপাসিয়া টিটিসিতে জনবল সংকট, দুই বছর বন্ধ তিন ট্রেড

ভবন আছে, আধুনিক যন্ত্রপাতিও রয়েছে। প্রশিক্ষণ নেওয়ার আগ্রহ রয়েছে তরুণদের। তবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক ও জনবল না থাকায় গাজীপুরের কাপাসিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (টিটিসি) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেড প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
বন্ধ থাকা ট্রেডগুলো হলো—মেশিন টুলস অপারেশন, সিভিল কনস্ট্রাকশন ও অটো ড্রাইভিং। এসব ট্রেডে প্রশিক্ষণের সুযোগ না থাকায় আগ্রহী তরুণরা সংশ্লিষ্ট কারিগরি দক্ষতা অর্জন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে কাপাসিয়া টিটিসিতে সাতটি ট্রেড চালু রয়েছে। এসব ট্রেডে আনুমানিক ৫০০ প্রশিক্ষণার্থী প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। কেন্দ্রটির বছরে সর্বোচ্চ ৬৭২ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে।
কাপাসিয়া কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রটিতে ৮৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৩১ জন। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় সবগুলো ট্রেডের কার্যক্রম চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এ কারণেই মেশিন টুলস অপারেশন, সিভিল কনস্ট্রাকশন ও অটো ড্রাইভিং ট্রেড প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
জনবল সংকট মোকাবিলায় আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে ১৩ জন কর্মী নিয়োজিত রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে বিভিন্ন পর্যায়ের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা করা হলেও প্রশিক্ষক সংকটের কারণে বন্ধ থাকা তিনটি ট্রেড চালু করা যাচ্ছে না।
ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, জনবল সংকটই তিনটি ট্রেড বন্ধ থাকার প্রধান কারণ। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল পাওয়া গেলে বন্ধ ট্রেডগুলো চালু করা হবে। কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বন্ধ থাকা ট্রেডগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় জনবল ও প্রশিক্ষক পাওয়া গেলে আগামী এক মাসের মধ্যে তিনটি ট্রেড চালু করার আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
শুধু প্রশিক্ষক সংকটই নয়, কেন্দ্রটির তিনটি ল্যাব বা ওয়ার্কশপও বর্তমানে বন্ধ কিংবা অচল অবস্থায় রয়েছে। তবে প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় আধুনিক যন্ত্রপাতি পর্যাপ্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ।
বিজ্ঞাপন
কেন্দ্রটিতে বছরে সর্বোচ্চ ৬৭২ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার সক্ষমতা থাকলেও বর্তমানে সাতটি চালু ট্রেডে প্রায় ৫০০ জন প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন। ফলে তিনটি ট্রেড বন্ধ থাকায় কেন্দ্রটির বিদ্যমান প্রশিক্ষণ সক্ষমতার একটি অংশ কাজে লাগানো যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সরকারি অর্থে নির্মিত অবকাঠামো ও সরবরাহ করা আধুনিক যন্ত্রপাতি প্রশিক্ষক ও জনবলের অভাবে পুরোপুরি কাজে না লাগলে এলাকার তরুণরা কারিগরি প্রশিক্ষণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হবেন। তারা দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষক নিয়োগ, বন্ধ তিনটি ট্রেড চালু এবং অচল ল্যাব-ওয়ার্কশপ সচলের দাবি জানিয়েছেন।








