Logo

তিস্তার বুক চিরে আটরশির পথে উরস শরীফের ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রাম
১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১২:৪৩
তিস্তার বুক চিরে আটরশির পথে উরস শরীফের ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়
ছবি: সংগৃহীত

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে তিস্তা নদীর বুক চিরে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছে ‘একক নজরানা’ হিসেবে প্রস্তুত করা বাঁশের ভুঁড়া। বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন-২০২৭ ও পবিত্র ওরসকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের বুড়িরহাট তিস্তা নদীর তীর থেকে এটি রওনা হয়।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের শ্রম ও প্রস্তুতির পর তৈরি করা হয়েছে বিশেষ এই বাঁশের ভুঁড়া। গত ৮ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজ শুরু হয়। এরপর রাজারহাট উপজেলার কর্মী গ্রুপ, জাকের ও ভক্তদের অংশগ্রহণে তিস্তার তীরে চলে এর নির্মাণ ও সাজসজ্জার কাজ। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) শেষ হয় নির্মাণকাজ।

নির্মাণ শেষ হওয়ার পর ওইদিন সন্ধ্যায় তিস্তার পাড়ে আয়োজন করা হয় বিদায়ী মাহফিল। এতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকার আশেকান ও ভক্তরা অংশ নেন। জিকির, ওয়াজ ও ধর্মীয় আলোচনায় মুখর হয়ে ওঠে নদীর তীর। মাহফিল শেষে অনেকে রাত কাটান ঘটনাস্থলে। ভোর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হয় ফরিদপুরের উদ্দেশে যাত্রার প্রস্তুতি।

মঙ্গলবার উষালগ্নে ধর্মীয় আবহে নদীপথে যাত্রা শুরু করে ভুঁড়াটি। পতাকা, রঙিন কাগজসহ বিভিন্ন উপকরণ দিয়ে সাজানো হয়েছে এটি। তিস্তার স্রোত ও ঢেউ পেরিয়ে দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পৌঁছানোর লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে ভুঁড়াটি।

বিজ্ঞাপন

যাত্রার সময় বুড়িরহাট তিস্তা নদীর তীরে ছিল উৎসুক মানুষের ভিড়। নারী, পুরুষ, শিশু ও কিশোরসহ বিভিন্ন বয়সী মানুষ নদীর পাড়ে জড়ো হন। কেউ ভুঁড়ার যাত্রা দেখতে এসেছেন, আবার কেউ মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করেছেন। ভক্তদের উপস্থিতির পাশাপাশি স্থানীয় মানুষের কৌতূহলে নদীর তীরজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।

স্থানীয় আশেকানদের ভাষ্য, বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন ও পবিত্র ওরস উপলক্ষে প্রতিবছর তিস্তার এই এলাকা থেকে ‘একক নজরানা’ হিসেবে বাঁশের ভুঁড়া পাঠানো হয়। দীর্ঘ নদীপথ অতিক্রম করে তা ফরিদপুরের দরবার শরীফে পৌঁছে দেওয়ার আয়োজন করা হয় ধর্মীয় বিশ্বাস ও আধ্যাত্মিক অনুভূতি থেকে।

তাদের মতে, এই ভুঁড়া তৈরি করতে দীর্ঘ সময় ধরে পরিশ্রম করতে হয়। নির্মাণ শেষে সেটিকে নদীপথে নিয়ে যাওয়ার সময় রোদ-বৃষ্টি, স্রোতসহ নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হতে হয়। তারপরও আয়োজনটি ঘিরে ভক্তদের মধ্যে থাকে উৎসাহ ও উদ্দীপনা। তাদের কাছে এটি কেবল একটি নৌযাত্রা নয়, বরং ধর্মীয় বিশ্বাস, আবেগ ও আধ্যাত্মিকতার সঙ্গে যুক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী আয়োজন।

বিজ্ঞাপন

ভুঁড়াটি যাত্রা শুরুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আশপাশের এলাকাতেও আগ্রহ তৈরি হয়। নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা এর যাত্রা প্রত্যক্ষ করেন। অনেকেই মোবাইল ফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে মুহূর্তটি স্মরণীয় করে রাখেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিবছর ভুঁড়া নির্মাণ, বিদায়ী মাহফিল এবং নদীপথে যাত্রাকে ঘিরে তিস্তার পাড়ে আলাদা পরিবেশ তৈরি হয়। নির্মাণকাজ শুরুর পর থেকেই ভক্তদের পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও এ আয়োজন নিয়ে আগ্রহ দেখা যায়।

তিস্তা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক মো. আব্দুস ছালাম বলেন, আশেকানরা বিশ্বাস করেন, দরবারে গেলে তারা আত্মিক প্রশান্তি লাভ করেন। এটি তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস ও আচার-অনুষ্ঠানের একটি অংশ।

বিজ্ঞাপন

বিশ্ব জাকের মঞ্জিল কর্মী গ্রুপের রাজারহাট থানা সেক্রেটারি রেজাউল করিম রতন বলেন, বিশ্ব ইসলামী মহাসম্মেলন ও পবিত্র ওরস উপলক্ষে প্রতিবছর রাজারহাট থেকে ‘একক নজরানা’ হিসেবে বাঁশের ভুঁড়া পাঠানো হয়। দীর্ঘ প্রস্তুতি ও ভক্তদের শ্রমে এবারও ভুঁড়াটি তৈরি করা হয়েছে। ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে মঙ্গলবার সেটি ফরিদপুরের উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।

৮ জুলাই নির্মাণ শুরুর পর ১৪ সেপ্টেম্বর কাজ শেষ এবং বিদায়ী মাহফিলের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ভোরে শুরু হয়েছে দীর্ঘ নদীপথের যাত্রা। এখন তিস্তার স্রোত পেরিয়ে ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে পৌঁছানোর অপেক্ষায় রয়েছে ‘একক নজরানা’ বাঁশের ভুঁড়াটি।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD