Logo

টিকটকে পরিচয় থেকে প্রেম, ভালোবাসার টানে দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
শরীয়তপুর
২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২০:২৬
টিকটকে পরিচয় থেকে প্রেম, ভালোবাসার টানে দেখা করতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার কিশোরী
ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টিকটকে পরিচয়ের পর ইমুতে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে ২১ বছর বয়সী এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে ওই যুবকের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে কিশোরীকে জোর করে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় কিশোরীর মা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছেন। মামলায় অভিযুক্ত যুবক রাজু গাজী (২১)। তিনি শরীয়তপুরের সখিপুর থানার চারভাগা শনিকান্দি গ্রামের সুলতান গাজীর ছেলে।

মামলার এজাহার ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নড়িয়ার পূর্ব দিনারা গ্রামের ওই কিশোরীর সঙ্গে প্রায় তিন মাস আগে টিকটকের মাধ্যমে রাজু গাজীর পরিচয় হয়। এরপর ইমুতে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

এজাহারে অভিযোগ করা হয়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাজুর সঙ্গে দেখা করতে নড়িয়ার ডিঙ্গামানিক গোলারমাঠ এলাকায় যায় কিশোরী। সেখানে রাজু তাকে জোর করে মোটরসাইকেলে তুলে সখিপুরে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে একদিন আটকে রেখে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করা হয়েছে বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, পরদিন বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই কিশোরীকে ঢাকায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে আটকে রেখে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।

পরে কিশোরী রাজুর কাছে বিয়ের কাবিননামা করার কথা বললে তাকে এলাকায় ফিরিয়ে আনা হয়। এরপর বাড়ির পাশের একটি সড়কে তাকে রেখে রাজু চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় মাতব্বর ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেন। তবে সেখানে কোনো সমাধান হয়নি। পরে অভিযুক্তের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, রাজু বিয়েতে রাজি নন। একই সঙ্গে মামলা করলে বা বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি করলে কিশোরীকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

ভুক্তভোগীর পরিবারের ভাষ্য, আইনি সহায়তার জন্য সখিপুর থানায় গেলে তাদের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে ২২ সেপ্টেম্বর ট্রাইব্যুনালে আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগীর মা।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে রাজু গাজীর বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেছে ভুক্তভোগীর পরিবার।

বিজ্ঞাপন

সখিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোফাজ্জল হোসেন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD