ঘরের ওপর বিশাল গাছ ভেঙে পড়ে গৃহবধূ মৃত্যু, অক্ষত ৮ মাসের শিশু

রংপুরে গভীর রাতে ঘরের ওপর বিশাল একটি গাছ ভেঙে পড়ে দীপা রানী (২৪) নামে এক গৃহবধূ নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী সজীব গুরুতর আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছে তাদের আট মাস বয়সী শিশুসন্তান। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকে অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দিনগত রাত আড়াইটার দিকে সদর উপজেলার মমিনপুর ইউনিয়নের হাজরাহাটি ভরকুল এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
স্থানীয়রা জানান, ওই রাতে এলাকায় কোনো ঝড়-বৃষ্টি ছিল না। হঠাৎ বিকট শব্দে আশপাশের মানুষের ঘুম ভেঙে যায়। পরে বাইরে বের হয়ে তারা দেখতে পান, একটি বিশাল জোড়পাকড় গাছ ভেঙে টিনের ঘরের ওপর পড়ে আছে। গাছটির নিচে চাপা পড়ে ঘরটি প্রায় বিধ্বস্ত হয়ে যায়।
সে সময় ঘরের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন দীপা রানী, তার স্বামী সজীব এবং তাদের আট মাস বয়সী শিশুসন্তান। গাছটি ঘরের ওপর পড়ে যাওয়ার পর স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজ শুরু করেন।
বিজ্ঞাপন
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
একপর্যায়ে গাছ সরিয়ে দীপা রানীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুটিকেও জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয়রা। স্বজন ও স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের ধারণা, ঘরের ওপর ভেঙে পড়া জোড়পাকড় গাছটির বয়স প্রায় ২৫০ থেকে ৩০০ বছর।
প্রতিবেশী পল্লীচিকিৎসক প্রফুল্ল রায় জানান, বিকট শব্দ শুনে তিনি ঘর থেকে বের হয়ে দেখতে পান গাছটি টিনের ঘরের ওপর পড়ে আছে। পরে তিনি স্থানীয়দের সঙ্গে উদ্ধারকাজে অংশ নেন। গাছের নিচে দীপা রানীকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। তার স্বামী সজীবের মাথায় গুরুতর আঘাত ছিল।
বিজ্ঞাপন
খবর পেয়ে রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে গাছ কেটে সরিয়ে উদ্ধারকাজ পরিচালনা করেন। আহত সজীবকে উদ্ধার করে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, চিকিৎসকরা তার মাথায় ১৩টি সেলাই দিয়েছেন।
হঠাৎ গাছটি ভেঙে ঘরের ওপর পড়ে যাওয়ায় দুটি টিনের ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘরের আসবাবপত্র ও অন্যান্য মালামালও নষ্ট হয়েছে। একই সঙ্গে একটি মোটরসাইকেলও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
মমিনপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. ফরহাদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ঘরের ওপর গাছ পড়ে ঘুমন্ত এক গৃহবধূর মৃত্যু অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছেন।
বিজ্ঞাপন
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য দুর্যোগ ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।








