Logo

প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য : পুলিশ হেফাজত থেকে ফিরলেন শিক্ষক

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
কুষ্টিয়া
১ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:২৫
প্রধানমন্ত্রীর উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য : পুলিশ হেফাজত থেকে ফিরলেন শিক্ষক
ছবি: সংগৃহীত

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে শ্রেণিকক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ তাকে নিরাপত্তার সঙ্গে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান।

ওসি খালেদুর রহমান বলেন, ‘আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাকে সসম্মানে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।’

শিক্ষককে আটকের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসার পর তাকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

বিজ্ঞাপন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন এবং সংশ্লিষ্ট থানাকে শিক্ষককে সসম্মানে ও নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

মাহ্দী আমিনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন মতের ভিন্নতা থাকা স্বাভাবিক। প্রত্যেক মানুষের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত রয়েছে এবং কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান গণতন্ত্রের শক্তি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এর আগে বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তিনি দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং বিদ্যালয়টির বাংলা বিষয়ের শিক্ষক।

স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। তখন শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। পরে তার বক্তব্যকে আপত্তিকর আখ্যা দিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে পুলিশ বিদ্যালয়ে গিয়ে তাকে হেফাজতে নেয়।

বিজ্ঞাপন

তবে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যায় শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন বলেন, ‘দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী সঠিকভাবে রিডিং পড়তে পারছিল না। তখন কিছুটা ক্ষোভ থেকেই শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বলেছিলাম, কয়েক দিন আগে তারেক রহমানও তো জাতিসংঘে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিছুটা আটকে গিয়েছিলেন। উনি দীর্ঘদিন দেশের বাইরে থাকায় বাংলা চর্চার ঘাটতি থাকতে পারে। কিন্তু নিয়মিত ছাত্র হয়ে তোমরা কেন রিডিং পড়তে পারবে না?’

তিনি আরও বলেন, ‘আমার কথার উদ্দেশ্য কটূক্তি ছিল না। তবে ক্লাসে ওনার প্রসঙ্গ টানাটা ভুল হয়েছিল। পরদিন কিছু স্থানীয় ব্যক্তি স্কুলে এসে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ তোলেন এবং বাইরে চিৎকার-চেঁচামেচি করে একটি মব তৈরির পরিস্থিতি তৈরি হয়। তখন আমার প্রাথমিক নিরাপত্তার স্বার্থেই পুলিশ এসে আমাকে থানায় নিয়ে যায়। পুলিশ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি, বরং অত্যন্ত মানবিক ও সম্মানের সঙ্গে আমাকে বসিয়ে রেখেছিল।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়ে শিক্ষক বলেন, ‘রাতে জানতে পারি, বিষয়টি সরকারপ্রধানের দৃষ্টিগোচর হওয়ার পর তিনি সরাসরি নির্দেশ দেন যেন আমাকে দ্রুত সসম্মানে ও নিরাপত্তার সঙ্গে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়। তার নির্দেশের পর রাতেই প্রশাসনের কর্মকর্তারা আমাকে বাড়িতে দিয়ে আসেন এবং স্থানীয়ভাবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেন। বিষয়টি জানার পর আমি অত্যন্ত আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ি। তার এই মহানুভবতা ও মানবিক সিদ্ধান্তে আমি ও আমার পরিবার চিরকৃতজ্ঞ।’

প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও প্রাগপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুজ্জামান মুকুলও জানান, শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে রাতেই সসম্মানে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এ সময় দৌলতপুর থানার ওসি খালেদুর রহমান এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) প্রদীপ কুমার দাশ উপস্থিত ছিলেন।

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD