৯ বছরেও শেষ হয়নি কোয়ারেন্টিন, পূর্ণবয়স্ক দুই লেপার্ড

গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছিল দুটি লেপার্ডের শাবককে। সেই কোয়ারেন্টিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর পেরিয়ে গেছে প্রায় নয় বছর। এর মধ্যে শাবক দুটি পূর্ণবয়স্ক হয়েছে, কিন্তু এখনো তাদের জন্য তৈরি হয়নি আলাদা বেষ্টনী। ছোট গ্রিলঘেরা কক্ষেই কাটছে তাদের জীবন।
বিজ্ঞাপন
রবিবার (৪ অক্টোবর) বিশ্ব প্রাণী দিবস। প্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপদ আবাস নিশ্চিত করার বার্তা নিয়ে দিনটি পালিত হলেও গাজীপুর সাফারি পার্কের এই দুই লেপার্ডের দীর্ঘ বন্দিজীবন প্রাণী ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
২০১৭ সালে খুলনা থেকে পাচারের সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী লেপার্ডের শাবক দুটি উদ্ধার করে। পরে তাদের গাজীপুর সাফারি পার্কে পাঠানো হয়। বন্য প্রাণী হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে তিন সপ্তাহের কোয়ারেন্টিনে রাখার পর আলাদা বেষ্টনীতে স্থানান্তরের কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
সম্প্রতি ওই কেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, লেপার্ড দুটি ছোট লোহার গ্রিলঘেরা কক্ষে রয়েছে। কখনো বসে থাকছে, আবার কখনো সীমিত জায়গার মধ্যে লাফালাফি করছে। গাছে ওঠা, বিস্তৃত এলাকায় চলাফেরা কিংবা স্বাভাবিকভাবে শিকার করার সুযোগ নেই। মানুষ দেখলে কখনো কখনো গ্রিলের দিকে তেড়ে আসতেও দেখা যায়।
বিজ্ঞাপন
সাফারি পার্কের বন্য প্রাণী পরিদর্শক মো. সারোয়ার হোসেন বলেন, লেপার্ড দক্ষভাবে লাফাতে ও গাছে উঠতে পারে। তারা প্রায় ২০ ফুট পর্যন্ত উঁচুতে লাফ দিতে সক্ষম। শিকার ধরে গাছের ওপর তুলে রাখার ক্ষমতাও রয়েছে তাদের।
প্রাণী কল্যাণকর্মী পিপল ফর অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের (পিএডব্লিউ) জেনারেল সেক্রেটারি ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, লেপার্ডের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা, উচ্চতা ও সূর্যের আলোসহ উপযুক্ত ইনক্লোজার প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ছোট জায়গায় রাখা তাদের স্বাভাবিক আচরণের জন্য উপযুক্ত নয়।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মনজুরুল কিবরিয়া বলেন, দীর্ঘদিন বন্দী থাকলে বন্যপ্রাণী স্বাভাবিক আচরণ ও শিকার করার দক্ষতা হারাতে পারে। উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে তাদের প্রাকৃতিক আবাসে ফেরানোর বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।
বিজ্ঞাপন
২০২৫ সালের ৯ এপ্রিল সাফারি পার্ক পরিদর্শনের সময় তৎকালীন পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান লেপার্ড দুটির জন্য আবাসন তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। তবে এখনো সেই নির্দেশনা বাস্তবায়িত হয়নি।
সাফারি পার্কের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মো. তারেক রহমান বলেন, নির্দিষ্ট বেষ্টনী না থাকায় লেপার্ড দুটিকে দর্শনার্থীদের সামনে আনা যাচ্ছে না। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
প্রকল্প পরিচালক ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা এম কে এম ইকবাল হোছাইন চৌধুরী জানান, উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি বিষয়টি পরিদর্শন করেছে। সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিজ্ঞাপন
এদিকে সাফারি পার্কে জিরাফের জন্য বেষ্টনী থাকলেও সেখানে এখন কোনো জিরাফ নেই। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে আনা ১০টি জিরাফের সবগুলোই ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে মারা গেছে।
ফলে বিশ্ব প্রাণী দিবসে সাফারি পার্কের দুই লেপার্ডের দীর্ঘ বন্দিজীবন এবং জিরাফশূন্য বেষ্টনী প্রাণী সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।








