Logo

আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ চন্দনাইশে

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
৫ অক্টোবর, ২০২৬, ১৭:২১
আদালতের নিষেধাজ্ঞার পরও জমি রেজিস্ট্রির অভিযোগ চন্দনাইশে
ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের চন্দনাইশে আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও কঠোর ‘স্ট্যাটাস কো’ বহাল থাকা অবস্থায় একটি বিতর্কিত জমির দলিল রেজিস্ট্রি সম্পন্ন করার অভিযোগ উঠেছে গাছবাড়িয়া চন্দনাইশ সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ের বিরুদ্ধে। আদালতের আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কার্যালয় গ্রহণের পরও কীভাবে নিষেধাজ্ঞাধীন জমির দলিল নিবন্ধিত হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মামলার বাদীপক্ষ।

বিজ্ঞাপন

আদালতের নথি অনুযায়ী, পটিয়া যুগ্ম জেলা জজ আদালত গত ৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে ১০ নম্বর আদেশে মামলাভুক্ত জমির বিষয়ে কঠোর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই আদেশের একটি কপি ১ এপ্রিল গাছবাড়িয়া চন্দনাইশ সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয় গ্রহণ করে। কপিটির স্মারক নম্বর ছিল ৩৩।

মামলার নথি ও সংশ্লিষ্ট দলিল পর্যালোচনায় জানা যায়, চন্দনাইশের গাছবাড়িয়া এলাকার জমি নিয়ে মো. শামসুল কিবরিয়া বাদী হয়ে মোহাম্মদ ইসলাম চৌধুরীসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে বণ্টন মামলা করেন। মামলাটির নম্বর ৫৩/২০২৫।

বাদীপক্ষের আবেদনের পর আদালত বিরোধপূর্ণ জমিতে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরে ৫ মার্চের আদেশে ওই সম্পত্তিতে কঠোর ‘স্ট্যাটাস কো’ বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে জমির কোনো অংশ হস্তান্তর না করতে বিবাদীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয় বলে মামলার নথিতে উল্লেখ রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের অভিযোগ, আদালতের আদেশের কপি সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও গত ২০ আগস্ট ওই বিরোধপূর্ণ সম্পত্তির একটি দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. শামসুল কিবরিয়ার দাবি, বিএস ২২৫৬ নম্বর খতিয়ানের ৯২১, ৯১২ ও ৯১৩ নম্বর দাগে থাকা মোট ১৬.৮৭ শতক জমি আদালতের নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত। আদালতের আদেশের বিষয়টি তিনি একাধিকবার সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়কে অবহিত করেছিলেন বলেও দাবি করেন।

তার অভিযোগ, বিষয়টি জানানোর পরও তা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হয়নি। পরে দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পারেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ইউসুফ জেবানী বলেন, মামলাটি বর্তমানে নিষেধাজ্ঞার আবেদনের বিরুদ্ধে বিবাদীদের আপত্তি এবং বাদীপক্ষের আরজির জবাব দাখিলের পর্যায়ে রয়েছে। বিবাদীরা মামলায় হাজির হলেও এখনো লিখিত আপত্তি দিয়ে শুনানিতে অংশ নেননি বলে জানান তিনি।

আইনজীবীর ভাষ্য, আদালতের ‘স্ট্যাটাস কো’ বহাল থাকা অবস্থায় তফসিলভুক্ত সম্পত্তি হস্তান্তরের অভিযোগ গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

অভিযোগের বিষয়ে গাছবাড়িয়া চন্দনাইশ সাব-রেজিস্ট্রার সিং এন থোয়াইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, যে দলিলটি তিনি রেজিস্ট্রি করেছেন, সেটির ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা ছিল না।

বিজ্ঞাপন

তবে আদালতের আদেশ, সংশ্লিষ্ট নথি ও দলিলের তথ্য দেখিয়ে ব্যাখ্যা জানতে চাইলে তিনি নির্দিষ্ট বক্তব্য দিতে পারেননি। একপর্যায়ে তিনি প্রতিবেদককে হোয়াটসঅ্যাপে ব্লক করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সেবাপ্রার্থী চন্দনাইশ সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকার পরও বিভিন্ন অজুহাতে সেবাপ্রার্থীদের অপেক্ষায় রাখা হয়।

ওই সেবাপ্রার্থীর আরও অভিযোগ, নির্ধারিত সরকারি ফি ও খরচের বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে অনেক ফাইল দ্রুত এগোয় না। জমি রেজিস্ট্রি ও দলিলসংক্রান্ত সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হয় বলেও তিনি দাবি করেন।

বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম জেলা রেজিস্ট্রার মো. রেজাউল করিম বকশীর বক্তব্য জানতে একাধিকবার তার দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি অফিস আইন মন্ত্রণালয়ের অধীন হওয়ায় এ বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে চান না। তবে উপজেলা প্রশাসনের চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত আবেদন করা হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে বলে জানান তিনি।

আদালতের নথিতে ৫ মার্চের নিষেধাজ্ঞার আদেশ, ১ এপ্রিল সাব-রেজিস্ট্রি কার্যালয়ে আদেশের কপি গ্রহণ এবং ২০ আগস্ট সংশ্লিষ্ট সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রির তথ্য থাকায় বিষয়টি নিয়ে তদন্তের দাবি উঠেছে।

বিজ্ঞাপন

সচেতন মহলের মতে, আদালতের আদেশের কপি সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পৌঁছানোর পরও যদি নিষেধাজ্ঞাধীন সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি হয়ে থাকে, তাহলে এর পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা আইনগত ব্যত্যয় ঘটেছে কি না তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দলিল নিবন্ধনের সময় আদালতের আদেশটি যথাযথভাবে বিবেচনায় নেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইচ্ছাকৃতভাবে দলিল রেজিস্ট্রি করা হয়েছে—এমন কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নথি, দলিল নিবন্ধনের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD