ভোলায় বিদ্যুৎ নিয়ে কর্মকর্তা-গ্রাহক সংঘর্ষ, আহত ৫

ভোলার মনপুরায় বিদ্যুৎ সরবরাহ ও বিতরণ নিয়ে অভিযোগ জানাতে গিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তা ও গ্রাহকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিদ্যুৎ বিভাগের এক উপ-সহকারী প্রকৌশলী ও চার গ্রাহক আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার সদর ডাকবাংলো মোড় এলাকায় ওজোপাডিকোর বিদ্যুৎ কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন—ওজোপাডিকোর উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান মনির এবং হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহক মো. শরিফ, মো. আক্তার, সোহাগ ও নিরব।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মনপুরায় দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ রয়েছে। গ্রাহকদের অভিযোগ, রাতে নিয়মিত বিদ্যুৎ না পাওয়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যসহ স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে অভিযোগ জানাতে কয়েকজন গ্রাহক সোমবার বিদ্যুৎ অফিসে গেলে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে।
বিজ্ঞাপন
পরে চার গ্রাহককে মারধরের অভিযোগে হাজিরহাট বাজারের ব্যবসায়ী ও বিদ্যুৎ গ্রাহকরা বিক্ষোভ-মিছিল করেন। তারা ঘটনার বিচার দাবি করে মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্মারকলিপি দেন।
আহত গ্রাহক শরিফ, আক্তার, সোহাগ ও নিরবের অভিযোগ, রাতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ না পাওয়ার বিষয়ে তারা অফিসে অভিযোগ জানাতে গেলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মনির তাদের সঙ্গে মারধরে জড়ান। তাদের আরও অভিযোগ, বেশি সময় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয় এবং টাকা না দিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী।
মনিরুজ্জামান মনির বলেন, যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হচ্ছে। গ্রাহকেরা কোনো কথা না শুনে তার ওপর হামলা ও মারধর করেছেন। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন। অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগও তিনি অস্বীকার করেন।
বিজ্ঞাপন
মনপুরা আবাসিক প্রকৌশলী মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, পাওয়ার হাউসের তিনটি মেশিনের মধ্যে দুটি নষ্ট হয়ে গেছে। একটি মেশিন দিয়ে কোনোভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু রাখা হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ অফিসে গিয়ে কর্মকর্তাকে মারধর করা ঠিক হয়নি। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, বর্তমানে তিনি সন্দ্বীপে অবস্থান করছেন। সেখানকার পাওয়ার হাউস থেকে একটি মেশিন এনে মনপুরার বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হবে।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজাহারুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিদ্যুৎ অফিসে হামলা ও কর্মকর্তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশি টহল অব্যাহত রয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা তজুমদ্দিনের সহকারী কমিশনার তড়িৎ চন্দ্র শীল বলেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের বিষয়ে ব্যবসায়ীরা স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করা হবে।








