সৌদিতে চাকরির কথা বলে ৯ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রামে সৌদি আরবে আকর্ষণীয় বেতনে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া এবং সেখানে পাঠানোর পর প্রতিশ্রুত কাজ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সৌদি প্রবাসী মো. শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নাজমুল হোসেন আদালতে মামলা করেছেন। একই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আরও তিনজন চাকরিপ্রত্যাশী অর্থ নেওয়ার অভিযোগ করেছেন।
বিজ্ঞাপন
শাহিন মিয়া অষ্টগ্রাম উপজেলার দেওঘর ইউনিয়নের কাগজীগ্রাম এলাকার মৃত বাদশাহ মিয়ার ছেলে। মামলার বাদী নাজমুল হোসেনের ভাষ্য, সৌদি আরবে ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে চাকরি এবং মাসে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বেতনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে মোট ৯ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে ২০২৫ সালের ২৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হয়।
নাজমুলের অভিযোগ, সৌদি আরবে যাওয়ার পর তাকে প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। সেখানে তিনি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন বলেও দাবি করেন। পরে প্রায় এক বছর পর সৌদি পুলিশের মাধ্যমে গ্রেপ্তার হন তিনি। ২০২৬ সালের ১১ জুন দেশে ফেরেন নাজমুল।
নাজমুল ও তার পরিবারের দাবি, প্রতিশ্রুত চাকরি দিতে না পারলে শাহিন মিয়া নেওয়া টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর টাকা ফেরত চাইলে তাদের বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
এ ঘটনায় টাকা ফেরত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে নাজমুল হোসেন কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলগ্রহণকারী আদালত-৪-এ মামলা করেন। মামলায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩-এর ৩১, ৩৩ ও ৩৬ ধারা এবং দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় শাহিন মিয়ার পাশাপাশি তার মা সাহেরা খাতুন (৫৫) ও স্ত্রী স্বপ্না বেগমকে (৩০) আসামি করা হয়েছে।
এদিকে শাহিন মিয়ার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন কাগজীগ্রাম এলাকার আরও তিন ব্যক্তি। তারা হলেন মৃত মাহমুদ হোসেনের ছেলে মেনু মিয়া, আব্দুল হান্নান মিয়ার ছেলে জুনায়েদ মিয়া এবং মাজু মিয়ার ছেলে তোফাজ্জল মিয়া। তাদেরও অভিযোগ, সৌদি আরবে চাকরি দেওয়ার কথা বলে অর্থ নেওয়া হলেও সেখানে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুত কাজ দেওয়া হয়নি।
বিজ্ঞাপন
অষ্টগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রুকনুজ্জামান বলেন, নাজমুল হোসেন আদালতে মামলা করেছেন। মামলার কাগজপত্র থানায় পৌঁছালে বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযোগের বিষয়ে শাহিন মিয়ার মা সাহেরা খাতুন বলেন, তিনি এ বিষয়ে কিছু জানেন না এবং অভিযোগ অস্বীকার করেন। অভিযুক্ত শাহিন মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।








