লালমনিরহাটে স্ত্রী হত্যা মামলায় স্বামীর মৃত্যুদণ্ড

লালমনিরহাটে স্ত্রী মিতু আক্তারকে পিটিয়ে হত্যার দায়ে স্বামী মো. আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) দুপুরে লালমনিরহাট জেলা ও দায়রা জজ মো. হায়দার আলী জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আতিকুল ইসলাম আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
মিতু আক্তার লালমনিরহাট সদর উপজেলার গোকুন্দা ইউনিয়নের গোকুন্দা দাড়ারপাড় মুন্সিটারী এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আতিকুল একই এলাকার মৃত হাবিবুর রহমানের ছেলে।
আদালত ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় দুই বছর আগে আতিকুলের সঙ্গে মিতুর বিয়ে হয়। তাদের পাঁচ মাস বয়সী একটি কন্যাসন্তান ছিল। বিয়ের পর থেকে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে মিতুকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়।
বিজ্ঞাপন
২০২৩ সালের ২০ সেপ্টেম্বর রাতে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে আতিকুলের সঙ্গে মিতুর কথা-কাটাকাটি হয়। আতিকুল কাজের উদ্দেশ্যে পাবনায় যেতে চাইলে মিতু বাধা দেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি মিতুর মাথা ও মুখে কিল-ঘুষি মারেন এবং পরে ঘরের উঠানে থাকা একটি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই মিতুর মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর আতিকুল পালিয়ে যান। পরদিন ২১ সেপ্টেম্বর সকালে মিতুর পাঁচ মাসের শিশুকন্যা আতিকা আক্তারের কান্নার শব্দ পেয়ে প্রতিবেশীরা বাড়িতে গিয়ে মিতুর মরদেহ দেখতে পান। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
এ ঘটনায় মিতুর বাবা মো. ইসলাম বাদী হয়ে লালমনিরহাট সদর থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ২০২৪ সালের ৪ জুলাই আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়।
বিজ্ঞাপন
সাক্ষ্য-প্রমাণ ও মামলার নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আতিকুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। জরিমানা অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি এপিপি অ্যাডভোকেট সামসুল আলম মিলন বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও নথি পর্যালোচনা করে আদালত রায় দিয়েছেন। তিনি জানান, আইন অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে এবং আসামির উচ্চ আদালতে আপিলের সুযোগ রয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নিহত মিতু আক্তারের পরিবারও।








