Logo

কোরআন বুকে নিয়ে কৃষকদল নেতা বললেন ‘ইয়াবা দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
জামালপুর
৬ অক্টোবর, ২০২৬, ২৩:১৭
কোরআন বুকে নিয়ে কৃষকদল নেতা বললেন ‘ইয়াবা দিয়ে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে’
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র কোরআন শরিফ বুকে নিয়ে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছেন জামালপুরের মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়ন কৃষকদলের বহিষ্কৃত সভাপতি মো. মতিউর রহমান তারা তালুকদার। প্রায় দেড়মাস কারাভোগের পর মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজ বাড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মতিউর রহমানের দাবি, তার বাড়িতে কোনো মাদক ছিল না। বাইরে থেকে ইয়াবা এনে বাড়ির আঙিনা থেকে উদ্ধারের নাটক সাজিয়ে তাকে মামলায় জড়ানো হয়েছে।

মতিউর রহমান মেলান্দহ উপজেলার দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি দুরমুঠ ইউনিয়ন কৃষকদলের সভাপতি ছিলেন। গত ১৫ আগস্ট তাকে গ্রেপ্তারের পর ১৭ আগস্ট উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি মতিউর রহমান বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক শাহজামাল স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

সংবাদ সম্মেলনে মতিউর রহমান অভিযোগ করেন, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান বাদল, সহসভাপতি জিয়াউল হক জিয়া, যুবদলের হেলাল, হযরত আলী, প্যানেল চেয়ারম্যান বিলাশ সরকার ও সভাপতি অপুসহ স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার অনিয়ম, চাঁদাবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করে আসছিলেন তিনি। এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ায় দলের কিছু নেতার সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। তার অভিযোগ, একপর্যায়ে তাকে ‘পথের কাঁটা’ হিসেবে সরিয়ে দিতে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

পবিত্র কোরআন শরিফ বুকে নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমার ঘরে কোনো মাদক ছিল না। বাইরে থেকে ইয়াবা এনে আমাকে ফাসানো হয়েছে। আমি অন্যায়ের প্রতিবাদ করেছি বলেই আমার বিরুদ্ধে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

মতিউর রহমান আরও দাবি করেন, ২০২৪ সালের আন্দোলনের পর থেকেই তিনি দলের ভেতরের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন। চাঁদাবাজি ও অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় স্থানীয় কয়েকজন নেতা তার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন। সেই বিরোধের জেরেই তাকে মাদক মামলায় ফাঁসানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তার স্ত্রী বিউটি বেগম ডিবি পুলিশের বিরুদ্ধে অর্থ দাবির অভিযোগ তোলেন। তার ভাষ্য, অভিযানের পর তার কাছে প্রথমে দুই লাখ টাকা দাবি করা হয়। পরে অনেক অনুরোধের পরও বিষয়টির সমাধান না হওয়ায় গহনা বন্ধক রেখে ৫০ হাজার টাকা সংগ্রহ করেন তিনি। তার অভিযোগ, হেলাল উদ্দিন নামে ডিবির এক সদস্য ওই টাকা দাবি করেছিলেন। টাকা দেওয়ার পর তার স্বামীর মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়া হয়।

তবে মতিউর রহমানকে ফাঁসানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দুরমুঠ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি সৈয়দ রাশেদুজ্জামান অপু মিয়া।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘তার আনা অভিযোগ সঠিক নয়। পুলিশ ইয়াবা পেয়েছে, তাকে ধরেছে। আমরা কী করব? আপনারা স্থানীয় লোকজনকে জিজ্ঞাসা করেন, তিনি কেমন মানুষ। দলের কেউ তাকে ফাসায়নি।’

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৬ আগস্ট দিনগত রাতে দুরমুঠ ইউনিয়নের সিন্দুরা ফসল এলাকায় মতিউর রহমান তারার বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা ডিবি-২। এ সময় তার বসতবাড়ি থেকে ২০টি ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়। পরদিন ১৭ আগস্ট মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জামালপুর ডিবি-২-এর সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হেলাল উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘তার কাছে মাদক পাওয়া গিয়েছিল বলেই তাকে আটক করা হয়েছে। টাকা লেনদেনের অভিযোগ ভিত্তিহীন। আমার বক্তব্য এখন যা, মৃত্যুর পরও তা-ই থাকবে। আপনারা তার আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলতে পারেন।’

জেবি/এএস

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD