দাকোপে মাদক ও অনলাইন জুয়ার ছোবলে বিপর্যস্ত তরুণ সমাজ

খুলনার দাকোপে মাদক ও অনলাইন জুয়ার বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে তরুণদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে অনলাইন জুয়ার প্রবণতা ছড়িয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে মাদকের বিস্তারও তরুণ সমাজ ও পরিবারগুলোর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে দিন-রাত অনলাইন বেটিংয়ে যুক্ত হচ্ছেন অনেকে। চায়ের দোকান, বাজার কিংবা খেলার মাঠের পাশাপাশি অনেক সময় পড়ার টেবিলেও মোবাইলের মাধ্যমে এসব জুয়ার কার্যক্রম চলছে। এতে অর্থনৈতিক ক্ষতির পাশাপাশি পারিবারিক ও সামাজিক নানা সমস্যাও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অনলাইন জুয়ার ক্ষেত্রে সহজে অর্থ জেতার প্রলোভনকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। শুরুতে ছোট অঙ্কের জয়ের অভিজ্ঞতা ব্যবহারকারীকে আরও বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে পারে। পরবর্তী সময়ে লোকসান হলে সেই অর্থ ফেরত পাওয়ার আশায় আবারও খেলায় যুক্ত হওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়। এভাবে অনেকেই ধীরে ধীরে আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি মানসিক চাপ ও পারিবারিক সংকটে পড়তে পারেন।
অনলাইন জুয়ার বিস্তারে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকাও আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন বেটিং প্ল্যাটফর্ম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, কনটেন্ট ও প্রচারণার মাধ্যমে তরুণদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করে। অনেক ক্ষেত্রে জুয়াকে বিনোদন বা দ্রুত অর্থ উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এতে ঝুঁকির বিষয়টি আড়ালে থেকে যায়।
বিজ্ঞাপন
আরেকটি বড় সমস্যা হলো অনলাইন জুয়ার প্ল্যাটফর্মগুলোর দ্রুত পরিবর্তনশীল কার্যক্রম। কোনো ওয়েবসাইট বা অ্যাপ বন্ধ হয়ে গেলে নতুন ডোমেইন বা বিকল্প প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে একই কার্যক্রম চালুর অভিযোগ রয়েছে। ফলে শুধু অভিযান পরিচালনা করে এর বিস্তার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
আরও পড়ুন
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলেও এসব কার্যক্রম পুরোপুরি বন্ধ হচ্ছে না। মাদকের পাশাপাশি অনলাইন জুয়ার বিস্তার ঠেকাতে নিয়মিত নজরদারি, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা এবং সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।
বিজ্ঞাপন
সচেতন মহলের মতে, তরুণদের এই দুই ধরনের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। একই সঙ্গে কিশোর-তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ইতিবাচক সামাজিক কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগও প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইন জুয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে তরুণদের সচেতন করার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদেরও সন্তানের অনলাইন কার্যক্রম ও অর্থনৈতিক লেনদেনের বিষয়ে দায়িত্বশীল নজরদারি রাখা জরুরি। মাদকের বিস্তার রোধেও পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
দাকোপের তরুণ সমাজকে মাদক ও অনলাইন জুয়ার ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষা করতে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে এর সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা স্থানীয়দের।








