মাদক থেকে কিশোর গাং, ভয়াবহ সাতক্ষীরা

মাদকে ভাসছে সাতক্ষীরা জেলা। সীমান্ত ঘেঁষা এই জেলার হঠাৎ বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মাদক ব্যবসায়ীরা। অপরদিকে উৎপাত বেড়েছে কিশোর গাং, করছে ডাকাতি, ছিনতাই আর খুনের মত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে চক্রটি । সাতক্ষীরা জেলার ৫ টি উপজেলা ভারত সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত। যার ফলে সহজে মাদক প্রবেশ করাতে পারে ব্যবসায়ীরা।
বিজ্ঞাপন
ভয়াবহ ইয়াবা,ফেনসিডিল, কোরেক্স,বিদেশী ব্যান্ডের মদ হাত বাড়ালো সহজেই মিলছে। মাদক হাতের নাগালে সহজে মেলাই বেড়েছে মাদক সেবনকারীর সংখ্যা। উঠতি বয়সী কিশোর যুবকরা মাদকের সাথে সম্পৃক্ততা হয়ে পড়েছে। সেবনের পাশাপাশি মাদকও বিক্রি করছে কিশোর গাং । আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে জড়িয়ে পড়ছে প্রায় সংঘর্ষে।
সরজমিনে অনুসন্ধানে দেখা যায়, সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে মাদকের কয়েকটি রুট রয়েছে। সেখানে রমরমা মাদক বিক্রি হয়। রয়েছে মাদক বিক্রির সক্রিয় সিন্ডিকেট
রুটগুলো হল সদরের পুরাতন সাতক্ষীরা, বাসস্ট্যান্ড, ভোমরা, বৈকারী, দেবহাটার শাখরা কোমরপুর, টাউনশ্রীপুর, পারুলিয়া, কালিগঞ্জের বসন্তপুর, উকশা, নারায়নপুর, কৃষ্ণনগর, বন্দকাটি, ফতেপুর, শ্যামনগরের রমজানগর, কৈখালী, নূরনগর, ভুরুলিয়া, আশাশুনির শ্রীউলা কালিবাড়ি বাজার, বুধহাটা, প্রতাপনর, তালার, পাটকেলঘাটা, ধানদিয়া কলারোয়ার কেড়াগাছি,চন্দনপুর, জয়নগর সহ বিভিন্ন স্থানে মাদকের ডিলার পয়েন্ট রয়েছে। এসব এলাকা থেকে পুরো জেলায় মাদক ছড়িয়ে পড়েছে।
বিজ্ঞাপন
কিছু ব্যবসায়ী সরাসরি টেকনাফ থেকে ঢাকাগামী বাসে ইয়াবা নিয়ে আসছে ছদ্দবেশে। মাদকে বেশি প্রভাব বিস্তার করছে কিশোরদের ওপরে যারা মাদকের টাকা জোগাড় করতে গিয়ে গড়ে তুলেছে কিশোর গাং। প্রতিনিয়ত রাত হলে চেতনাশক স্প্রে ব্যবহার করে বাড়ি বাড়ি ডাকাতি করছে। অনেক সময় কিশোর গাং আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে সংঘষর্ষে লিপ্ত হচ্ছে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা শহরে আধিপত্য বিস্তার কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মারামারি ঠেকাতে ছুরির আঘাতে ১৯ বছরের কিশোর জাকারিয়া মারা যায়। যার বিচারের দাবিতে সোচ্চার সাতক্ষীরা বাসী।
তাছাড়া শহর ছাড়িয়ে গ্রামে গ্রামে মাদক সেবনের ফলে গড়ে উঠেছে বহু কিশোর গাং। কালিগঞ্জ উপজেলায় কিশোর গাং উৎপাত বেড়েছে ভয়াবহ । বিষ্ণুপুুর ইউনিয়নে জুড়ে রাত হলে চেতনাশক স্পে ব্যবহার করে ডাকতি করছে কিশোর গাং। কিশোর গাং মাদকের সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে। এখানে প্রকাশ্য ইয়াবা বিক্রি হয় পুলিশ কখনো অভিযান পরিচালনা করে না এলাকাবাসী জানিয়েছে। এলাকাবাসী বহুবার পুলিশকে তথ্য দিলেও মেলেনি কোন অভিযণ। কিশোর গাং সদস্যদের কাছে রয়েছে দেশীয় অস্ত্রের সমাহার।
শহরের কামালনগরের বাসিন্দা মাহমুদ হাসান বলেন, সাতক্ষীরা শহরে কিশোর গাং উৎপাত বেড়েছে। তারা মাদক সেবনের পাশাপাশি মাদক বিক্রি করছে। মাঝে মাঝে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ করছে। পুরো শহর কিশোর গাং আতঙ্ক বিরাজ করছে। শহরের ইটাগাছা, পলাশপোল, সুলতানপুর বিভিন্ন এলকায় একাধিক কিশোর গাং রয়েছে। মাদক আর কিশোর গাং একই সাথে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পদক্ষেপ নিতে হবে।
বিজ্ঞাপন
কালিগঞ্জের বন্দকাটি বাসিন্দা ছবুর মোড়ল বলেন, বন্দকাটিতে ভয়াবহ মাদক বিক্রি হয় প্রকাশ্যো। এখানে মাদক বিক্রির পাশাপাশি গড়ে উঠেছে কিশোর গাং। কিশোর গাং লালন করে মাদক ব্যবসায়ী। কিশোর গাং মাদকের টাকা জোগাড় করতে চুরি ডাকাতি ছিনতাই মত অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। পুলিশ কখন এদের বিষয়ে পদক্ষেপ নেয়না।
শ্যামনগর নকিপুরের বাসিন্দা আঙ্গুর হোসেন বলেন, শ্যামনগরে মাদকের ছড়াছড়ি। বিশেষ করে ফেনসিডিলের পরিবর্তে কোরেক্স ছিরাপে ঝুঁকছে। পাশাপাশি রয়েছে মরণঘ্যাতি ইয়াবা। মাদকের কারণে বিভিন্ন এলাকায় চুরি বেড়েছে। চুরি করছে মাদকের ভয়াল থাবায় জর্জরিত কিশোর গাং। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ অভিযানের মাধ্যম কঠোর হস্তে দমন করতে হবে মাদক ও কিশোর গাং।
সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার আবু সালেহ মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, মাদক ও কিশোর গাং বিষয়ে আমরা তালিকা তৈরি করছি। তালিকা অনুযায়ী শহরে ও শহরের বাইরে অভিযান নিয়মিত পরিচালনা হচ্ছে। আমরা পুলিশ বাহিনী এ বিষয়ে সর্তক। মাদকের বিরুদ্ধে জিরে টলারেন্স জারি করা হয়েছে৷ মাদক কমে গেলে কিশোর গাং ও নির্মূল হবে।








