Logo

পাঁচ বছরের শিশুকে নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগ, বিপাকে পরিবার

profile picture
জেলা প্রতিনিধি
মাদারীপুর
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৩:১৩
পাঁচ বছরের শিশুকে নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগ, বিপাকে পরিবার
ছবি: সংগৃহীত

মাদারীপুরের কালকিনি উপজেলার সাহেবরামপুর এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা থানায় লিখিত এজাহার দেওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত পাল্টা মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে পরিবারটি।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারে চাপ ও প্রাণনাশের হুমকির আশঙ্কায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলেও দাবি তাদের। পরিবারের অভিযোগ, চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ঘরে নিয়ে যৌন নিপীড়নের চেষ্টা করেন একই এলাকার হাবিবুর রহমান সিকদার ওরফে হাবুল সিকদার। এ ঘটনায় গত ৬ অক্টোবর কালকিনি থানায় লিখিত এজাহার দেন শিশুটির মা। তবে অভিযোগ দায়েরের পরও অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা যায়নি বলে জানিয়েছে পরিবার।

ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। অভিযুক্তের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভের একপর্যায়ে তাঁর বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে অভিযুক্তের স্ত্রী জমিসংক্রান্ত পাল্টা মামলা করার কথা স্বীকার করেছেন। সব মিলিয়ে শিশুটির পরিবার সুষ্ঠু তদন্ত, ন্যায়বিচার ও নিরাপত্তা দাবি করেছে।

শিশুটির মায়ের দেওয়া এজাহার অনুযায়ী, গত ২ অক্টোবর সকাল ১১টার দিকে কালকিনি উপজেলার মধ্য সাহেবরামপুর এলাকায় বাড়ির সামনের পাকা রাস্তা থেকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে অভিযুক্তের বসতঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ঘরের সামনের কক্ষে একটি খাটের ওপর শিশুটিকে যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগ করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এজাহারে শিশুটির মায়ের দাবি, মেয়েকে খুঁজতে খুঁজতে অভিযুক্তের বাড়ির কাছে গিয়ে তিনি ঘরের ভেতর থেকে কান্নার শব্দ শুনতে পান। পরে বেড়ার ফাঁক দিয়ে তাকিয়ে শিশুটিকে অভিযুক্তের সঙ্গে দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন তিনি। তাঁর চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে অভিযুক্ত সেখান থেকে চলে যান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে প্রতিকার চান। সেখানে প্রত্যাশিত সমাধান না পেয়ে তাঁরা থানায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। পরে ৬ অক্টোবর কালকিনি থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

শিশুটির পরিবারের দাবি, যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগে এজাহার দেওয়ার পর তাঁদের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত মামলা করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট জমি নিয়ে এর আগে অভিযুক্ত পক্ষের সঙ্গে কোনো বিরোধ ছিল না বলেও দাবি করেছে পরিবারটি।

তাদের অভিযোগ, শিশুটির ঘটনার বিচার চাওয়ায় চাপ সৃষ্টি করতে পাল্টা মামলার আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি তাদের।

স্থানীয় বাসিন্দা আকলিমা, সোনিয়া, তানিয়া ও রুমকির অভিযোগ, অভিযুক্ত ব্যক্তি এর আগেও শিশুদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাঁরা বর্তমান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং শিশুটির পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দা সালাম হাওলাদার, রুবেল সিকদার, আলমার শিকদার, আলমগীর শিকদার ও বেলায়েত মাতব্বরসহ কয়েকজনের অভিযোগ, অভিযুক্ত পক্ষ আর্থিকভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় পরিবারটি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে। তাঁদের দাবি, অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে চাপ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে।

শিশুটির মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার নিষ্পাপ বাচ্চাকে চকলেটের প্রলোভন দেখিয়ে এভাবে খারাপ কাজ করার চেষ্টা করবে, কখনো ভাবতে পারিনি। তারা অনেক ক্ষমতাশালী, টাকাপয়সা বেশি। আমরা বিচার চাইতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের কাছে গিয়েছিলাম, কিন্তু বিচার পাইনি। আমি আমার মেয়ের সঙ্গে এমন ঘটনার বিচার চাই। এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হোক, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো শিশুর সঙ্গে কেউ এমন করার সাহস না পায়।

তিনি আরও জানান, ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন বলে তাঁর দাবি।

বিজ্ঞাপন

শিশুটির বাবা বলেন, আমরা গরিব মানুষ, দিন এনে দিন খাই। তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা আমাদের জন্য কঠিন। মামলা করার কয়েক দিন পার হয়ে গেলেও পুলিশ আসামিকে ধরতে পারেনি বলে আমাদের অভিযোগ। উল্টো অভিযুক্তের বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় করা মামলায় আমাকেও আসামি করা হয়েছে। যেখানে মেয়ের বিচার পাওয়ার জন্য থানায় গিয়েছি, সেখানে এখন আমাকেই মামলার আসামি হতে হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শিশুটিকে যৌন নিপীড়নচেষ্টার অভিযোগের প্রতিবাদে গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় সাহেবরামপুর ইউনিয়নের মধ্যেরচর সাহেবরামপুর গ্রামে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। এতে প্রায় পাঁচ শতাধিক মানুষ অংশ নেন বলে স্থানীয়দের দাবি।

বিক্ষোভের একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা অভিযুক্তের বসতবাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং পরে সেখানে অগ্নিসংযোগ করে। এতে এলাকায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে এ ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

বিজ্ঞাপন

অভিযুক্ত হাবিবুর রহমান সিকদার ওরফে হাবুল সিকদারের স্ত্রী দেলোয়ারা বেগম জানিয়েছেন, শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁরাও গত ৬ অক্টোবর বাদীপক্ষের বিরুদ্ধে জমিসংক্রান্ত মামলা করেছেন বলে স্বীকার করেন তিনি।

কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহুরুল আলম বলেন, অভিযোগ পেয়েছি। মামলার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শিশুটির পরিবারের প্রত্যাশা, অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করা হবে এবং তারা নিরাপদে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ পাবে। একই সঙ্গে শিশুটির সুরক্ষা ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করারও দাবি জানিয়েছে তারা।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD