Logo

মা ইলিশ সংরক্ষণে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ২৪ ঘণ্টা পাহারায় নৌ-পুলিশ

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
কমলনগর, লক্ষ্মীপুর
১০ অক্টোবর, ২০২৬, ১৪:০২
মা ইলিশ সংরক্ষণে লক্ষ্মীপুরের মেঘনায় ২৪ ঘণ্টা পাহারায় নৌ-পুলিশ
ছবি: প্রতিনিধি

ইলিশের প্রজনন নির্বিঘ্ন রাখতে মেঘনা নদীতে ২২ দিনের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে সরকার। নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে লক্ষ্মীপুরের মেঘনা নদীতে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে নৌ-পুলিশ ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। মা ইলিশ শিকার বন্ধে নদীতে দিনরাত টহল দেওয়ার পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট বাহিনী।

বিজ্ঞাপন

সরকারি ঘোষণা অনুযায়ী, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন মেঘনা নদীসহ দেশের সব নদ-নদী ও সাগরে ইলিশসহ সব ধরনের মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে জেলেদের সচেতন করতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর, রামগতি ও সদর উপজেলার মেঘনা তীরবর্তী এলাকায় জেলা প্রশাসন ও মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে মাইকিং এবং লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে।

কমলনগর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির এক কর্মকর্তা জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণে তাঁরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। নিষেধাজ্ঞার পুরো সময় নদীতে দিনরাত টহল অব্যাহত থাকবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় আমাদের সর্বোচ্চ ভূমিকা থাকবে। সরকারিভাবে ২২ দিন মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আমরা নদীতে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা টহলে আছি। কোনোভাবেই এই সময়ে মা ইলিশ ধরতে দেওয়া হবে না।

বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডও মেঘনা নদীতে নিয়মিত টহল ও নজরদারি চালানোর কথা জানিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মাছ ধরলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

কোস্ট গার্ডের এক কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কর্মকর্তা ও বাহিনীর সদস্যরা দিনরাত ২৪ ঘণ্টা মেঘনা নদীতে দায়িত্ব পালন করছেন। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কেউ মা ইলিশ ধরলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেলেদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন। এ সময়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারগুলোর সহায়তায় সরকারের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় চাল বিতরণ করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা গেলে ভবিষ্যতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে। তাই সাময়িক অসুবিধা হলেও দীর্ঘমেয়াদি সুফলের কথা বিবেচনা করে জেলেদের সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, নিষেধাজ্ঞা চলাকালে জেলেদের জন্য বিশেষ খাদ্যসহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি নদীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

ইলিশের প্রজনন সুরক্ষা ও উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো কাজ করছে। এ সময়ে মাছ ধরা, ক্রয়-বিক্রয়, পরিবহন ও মজুতসংক্রান্ত সরকারি নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে আহ্বান জানানো হয়েছে।

জেবি/আরএক্স

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD