Logo

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, হতাশা নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা

profile picture
উপজেলা প্রতিনিধি
রাঙ্গাবালী, পটুয়াখালী
৭ অক্টোবর, ২০২৬, ২০:৩০
২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা, হতাশা নিয়ে ঘাটে ফিরছেন জেলেরা
ছবি: সংগৃহীত

মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন নিশ্চিত করতে দেশের নদ-নদী ও সাগরে মাছ ধরার ওপর শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। বুধবার (৭ অক্টোবর) রাত ১২ টার পর থেকে এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে শেষ সময়ে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালীর জেলেরা ঘাটে ফিরতে শুরু করেছেন। তবে পুরো মৌসুমে বৈরী আবহাওয়া ও সাগরে জলদস্যুদের আতঙ্কে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় হতাশা নিয়েই ফিরছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

জেলেরা জানান, মৌসুমের বড় একটি সময় সাগরে একের পর এক বৈরী আবহাওয়া বিরাজ করায় তারা ঠিকমতো মাছ ধরতে পারেননি। কেউ কেউ মাছ পেলেও অধিকাংশ জেলের দাবি, ট্রলারের জ্বালানি, বরফ, খাবার ও জালের পেছনে যে খরচ হয়েছে, অনেক সময় সেটিও উঠে আসেনি।

রাঙ্গাবালী উপজেলার জেলেরা গত কয়েক মাস ধরে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় অনেকেই দেনায় জর্জরিত। এর মধ্যে আবার শুরু হচ্ছে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা। ফলে এ সময়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে কীভাবে দিন কাটবে, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তারা।

উপজেলার চরমোন্তাজ ইউনিয়নের দক্ষিণ চরমোন্তাজ গ্রামের জেলে জামাল ফরাজী বলেন, “সাগরে এখন আগের মতো মাছ পাওয়া যাচ্ছে না। ট্রলারে যে খরচ হয়, অনেক সময় সেটাই ওঠে না। আবার নিষেধাজ্ঞা শুরু হচ্ছে। এই সময়ে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব, তা নিয়ে চিন্তায় আছি।”

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

একই ইউনিয়নের জেলে আসাদুল প্যাদা বলেন, “মাছ না পাওয়ায় আমাদের অনেক টাকা লোকসান হয়েছে। মহাজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে সাগরে যাই। এখন নিষেধাজ্ঞার সময় কিস্তি ও সংসারের খরচ কীভাবে চালাব, সেটাই বড় চিন্তা।”

জেলেদের অভিযোগ, মাছ ধরার শেষ সময়েও সাগরে জলদস্যুদের আতঙ্ক ছিল। এ কারণে অনেক জেলে ঝুঁকি নিয়ে সাগরে যেতে পারেননি। তাদের দাবি, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সরকারি সহায়তা দ্রুত ও সঠিকভাবে প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।

তবে মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, রাঙ্গাবালীর জন্য ইতোমধ্যে সরকারি সহায়তার চাল বরাদ্দ করা হয়েছে। উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ নিবন্ধিত জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

রাঙ্গাবালী উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ভিক্টর বাইন বলেন, “রাঙ্গাবালীর জন্য চাল বরাদ্দ হয়েছে। উপজেলার ১২ হাজার ৫০০ জেলেকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে।”

তবে সরকারি সহায়তার পরিমাণ নিয়ে অসন্তোষ রয়েছে জেলেদের মধ্যে। তাদের দাবি, ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞার সময়ে একটি পরিবারের জন্য ২৫ কেজি চাল যথেষ্ট নয়। পাশাপাশি প্রকৃত অনেক জেলের নাম তালিকায় না থাকায় তারাও সরকারি সহায়তা থেকে বঞ্চিত হন বলে অভিযোগ তাদের।

জেলেরা বলছেন, শুধু চালের সহায়তা নয়, নিষেধাজ্ঞার সময়ে সংসার চালানোর জন্য আর্থিক সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এ সময়ে ঋণের কিস্তি স্থগিত রাখার কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সরকারি নিষেধাজ্ঞা যথাযথভাবে বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি এবং অভিযান জোরদার থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাজমুল হাসান বলেন, “সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মৎস্য বিভাগ, কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের যৌথ নজরদারি ও অভিযান চলবে। কেউ আইন অমান্য করে সাগর বা নদীতে মাছ ধরতে গেলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

নিষেধাজ্ঞার ২২ দিন নিরাপদে পার করতে দ্রুত সরকারি সহায়তা পাওয়ার পাশাপাশি ঋণের কিস্তির চাপ কমানোর ব্যবস্থা চান রাঙ্গাবালীর জেলেরা। তাদের প্রত্যাশা, নিষেধাজ্ঞার এই সময়ে সরকারি সহায়তা যেন প্রকৃত জেলেদের কাছে পৌঁছে এবং পরিবার নিয়ে সংকটময় সময় পার করার সুযোগ তৈরি হয়।

জেবি/এসডি

জনবাণী এর সকল স্বত্ব সংরক্ষিত। কপিরাইট © ২০২৬

Developed by: AB Infotech LTD